শিরোনাম

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সংসদ সদস্যদেরকে ইসির ৯ নির্দেশনা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ যে কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না মির্জা আব্বাস
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

‘সালমান ক্যামেরার দিকে তাকালেই ম্যাজিক ঘটে’

আগামী ২১ আগস্ট বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে বহুপ্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘৭ ডগস’। মরোক্কান-বেলজিয়ান পরিচালক জুটি আদিল এল আরবি ও বিলাল ফালাহের পরিচালনায় তৈরি এই আরবি চলচ্চিত্রে সালমান খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত এবং বিখ্যাত ইতালীয় অভিনেত্রী মনিকা বেলুচ্চি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির শুটিং সেটে সালমানের কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে প্রশংসায় মেতে ওঠেন এই দুই নির্মাতা।পরিচালক আদিল জানান, শুটিং সেটে সালমানের নিজস্ব স্বকীয়তা ও উপস্থিতির ধরন তাকে বারবার হলিউড তারকা উইল স্মিথের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

সালমানের সহজাত তারকাদের মতো চার্মিং ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ক্যামেরা তার দিকে তাক করলেই যেন সেটে এক মায়াবী ম্যাজিক ঘটে যায়।’

আদিল আরও জানান, সালমান খুব দ্রুত ধরে ফেলতে পারেন কোন দৃশ্যে পরিচালকের ঠিক কী প্রয়োজন। নিখুঁত টেক দেওয়ার পর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি চরিত্রে এমন কিছু মাত্রা যোগ করেন, যা পুরো দৃশ্যকেই নতুন এক রূপ দেয়। সালমানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে আদিল একটি চলচ্চিত্র পাঠশালায় গিয়ে ছবি বানানো শেখার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

অন্যদিকে সহ-পরিচালক বিলাল বলেন, ‘সালমান অনেক সময় শুটিংয়ের মাঝে নিজের থেকে এমন কিছু সংলাপ বা সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি যোগ করতেন, যা এডিটিং টেবিল বা সম্পাদনার সময় আলাদাভাবে নজর কাড়ত। অনায়াসেই ছোট্ট একটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে তোলার জাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে এই বলিউড সুপারস্টারের।’

উল্লেখ্য, প্রায় ৪ কোটি ডলার বাজেটে নির্মিত ‘৭ ডগস’ হতে যাচ্ছে আরব অঞ্চলের অন্যতম ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র। এর বড় একটি অংশের চিত্রায়ণ হয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদে। উচ্চমানের অ্যাকশন, দুর্দান্ত স্টান্ট এবং রোমাঞ্চকর বিস্ফোরণের দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে এটি। সিনেমাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে যাচ্ছে এর একটি বিশাল বিস্ফোরণের দৃশ্য, যা ইতোমধ্যেই সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র বিস্ফোরণ হিসেবে 'গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস'-এ স্থান করে নিয়েছে।
 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

আলভারেজের আশা ছেড়ে বিকল্প ফুটবলার খুঁজছে বার্সেলোনা

অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে পেতে মরিয়া ছিল বার্সেলোনা। তবে এবারের মতো বাস্তবতা মেনে নিয়ে ব্লুগ্রানা–রা অবশেষে তার আশা ছেড়ে দিয়েছে। দলবদলের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এখন অন্য স্ট্রাইকারদের দিকে নজর দিচ্ছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। সেই তালিকায় আছেন আরেক আর্জেন্টাইন লাউতারো মার্টিনেজও।

এক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে, আলভারেজের বিষয়টি পুরোপুরি বাদ দেয়নি বার্সা। ভবিষ্যতে এমনকি জানুয়ারির সংক্ষিপ্ত দলবদলেও তারা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের জন্য আবারও চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের অনড় অবস্থানের কারণে ক্রীড়া পরিচালক দেকোকে এখন বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজতে হচ্ছে।

বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও একজন ‘নম্বর নাইন’ দলে চান। রবার্ট লেভান্ডফস্কি ও ফেররান তোরেসের বিদায়ের পর আক্রমণভাগে একজন স্ট্রাইকারের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলেছেন তিনি। গতকাল (বুধবার) ফ্লিক বলেন, ‘আমরা ওই খেলোয়াড়টির (স্ট্রাইকার) খোঁজ করছি এবং ডেকো দারুণ কাজ করছে।’ তবে ক্লাবের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা মনে করেন, নতুন স্ট্রাইকার না এলেও বর্তমান স্কোয়াডে যথেষ্ট বিকল্প রয়েছে।

ডেকো বলেন, ‘আমরা আক্রমণভাগে দুজন খেলোয়াড়কে হারিয়েছি– লেভি ও ফেররান। আমার মনে হয়, যেসব খেলোয়াড় আমরা দলে এনেছি, তাদের মাধ্যমে ফেররানের জায়গা পূরণের সমাধান আমাদের আছে। কিন্তু রবার্টকে প্রতিস্থাপন করা অনেক বেশি কঠিন। তার মতো একজন খেলোয়াড়কে বদলি করা সত্যিই কঠিন। আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু সমাধান আছে। তবে বাজারে কী পাওয়া যাচ্ছে, সেটাও দেখতে হবে। অনেক গুঞ্জন চলছে। আমার মনে হয় আরও কিছু পরিবর্তন হবে। আমরা এখনও কঠোর পরিশ্রম করছি।’

এর আগে কাতালানরা চলতি গ্রীষ্মের দলবদলে আলভারেজকে পেতে প্রায় ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটি প্রত্যাখ্যান করে অ্যাতলেটিকো। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই ফরোয়ার্ড প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, তিনি ক্লাব পরিবর্তন করতে চান। তবে তার বর্তমান ক্লাব শুরু থেকেই তাকে ছাড়বে না বলে অবস্থান পরিষ্কার রেখেছে। বার্সার আশা ছিল আলভারেজের ওই মন্তব্যে অ্যাতলেটিকোর অবস্থান কিছুটা নরম হবে। কিন্তু সূত্র জানিয়েছে, এখন ক্লাব মেনে নিয়েছে– শেষ মুহূর্তে কোনো ‘নাটকীয়’ পরিবর্তন না হলে চলতি মাসে এই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ফ্লিক অবশ্য এখনও ‘নম্বর ৯’-এর আশা ছাড়েননি। তবে ক্লাবের অন্যরা মনে করছেন, রাফিনিয়া, করিম আদেয়েমি, অ্যান্থনি গর্ডন, এমনকি লামিনে ইয়ামালকেও সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানো সম্ভব। আবার ফারমিন লোপেজ এবং দানি ওলমোকেও অতীতে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলানো হয়েছে। প্রাক-মৌসুমে স্কোয়াডে একমাত্র স্বাভাবিক স্ট্রাইকার হিসেবে আছেন ১৮ বছর বয়সী মিশরের ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিম। হামজা গতকাল জোয়ান গাম্পার ট্রফিতে আল আহলির বিপক্ষে বার্সার জয়ে গোল করেন। যা প্রাক-মৌসুমে তার চতুর্থ গোল।

এদিকে, চলতি গ্রীষ্মে বার্সেলোনা চেলসির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো ও বোর্নমাউথের ফরাসি তরুণ জুনিয়র কুপ্রির ব্যাপারেও খোঁজ নিয়েছিল। তবে পেদ্রো চেলসির সঙ্গে নতুন চুক্তি এবং বোর্নমাউথের কুপ্রি পায়ের চোটে চার মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকবেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইন্টার মিলানের লাউতারো মার্টিনেজ ও স্পোর্টিং সিপির লুইস সুয়ারেজের নামও বার্সার সঙ্গে জড়িয়েছে। তবে আপাতত দুজনের ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য ট্রান্সফার ফি বার্সার নাগালের বাইরে। ভিয়ারিয়ালের দুই খেলোয়াড় আয়োজে পেরেজ ও জর্জেস মিকাউতাদজের পরিসংখ্যানেও বেশ মুগ্ধ বার্সা।