শিরোনাম

মার্কিন-ইরান চুক্তি: লেবাননের ভাগ্যে কী আছে? বাবাকে হত্যা, ভাই নিখোঁজ– ট্রাজেডি থেকে বিশ্বকাপে ইতিহাস আয়মানের শনিবার খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট ২ ট্যাংকারে হরমুজ পেরোলো ইরানের ৩.৮ বিলিয়ন ব্যারেল তেল দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

দল যার যার কিন্তু মেসি সবার: বুবলী

সবুজ গালিচায় যখন জাদুকর লিওনেল মেসির পা ছোঁয়, তখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের কট্টর সমর্থকেরও চোখ ফেরানো দায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নেমে সেই চেনা ম্যাজিক দেখালেন আর্জেন্টাইন। ম্যাচের মাত্র ১৭ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক গোল করে আলবিসেলেস্তেদের এনে দেন প্রথম সাফল্য। এরপর একে একে আরও দুই গোল।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে আর্জেন্টিনার শুরুটা হলো একদম মেসিময়। আর তার জাদুকরী হ্যাটট্রিকেই আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

মাঠের সেই ফুটবল উন্মাদনা গ্যালারি কিংবা স্টেডিয়ামের গণ্ডি পেরিয়ে এবার আছড়ে পড়েছে সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে শোবিজ তারকাদের মনেও। আর তাতেই নিজের ফুটবল আবেগকে ধরে রাখতে পারলেন না ঢাকার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী।

ব্যক্তিগত জীবনে বুবলী কিন্তু আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক। তবে চিরবৈরী শিবিরের হয়েও মেসির এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে বুঁদ হয়েছেন এই ঢালিউড সুন্দরী। আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত এই শুরুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে বুবলী যেন বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন ছুড়েছেন, ‘মেসি এত ভালো খেলে কেন?’

ব্রাজিলকে সমর্থন করলেও মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ ঢালিউড অভিনেত্রী বুবলী। সামাজিক মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এই লোকটা কীভাবে এত দারুণ খেলে? লিওনেল মেসি আসল জাদুকর। দল যার যার, কিন্তু মেসি সবার!’

ব্রাজিল সমর্থক হয়েও মেসির প্রতি বুবলীর এমন অকপট প্রশংসা ও মুগ্ধতা এরই মধ্যে নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

বাবাকে হত্যা, ভাই নিখোঁজ– ট্রাজেডি থেকে বিশ্বকাপে ইতিহাস আয়মানের

৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ের বিপক্ষে ২৯ মিনিটে গোল হজম করে ইরাক। মিনিট দশেক পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে সমতায় ফেরান আয়মান হুসেইন। শেষ পর্যন্ত আর্লিং হালান্ডের দলের কাছে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে ইরাক। তবে আয়মানের নামটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই তারকা স্ট্রাইকার অবশ্য এতদূর এসেছেন ভয়াবহ ট্রাজেডি পেছনে রেখে।

২০০৮ সালে আয়মানের বয়স ছিল ১২ বছর, ওই সময় তার বাবা বাড়ি নির্মাণের সামগ্রী কিনতে যাওয়ার পথে আল-কায়েদা সদস্যদের গুলিতে নিহত হন। পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন ইরাকি সেনাবাহিনীর সদস্য। এর কয়েক বছর পর দেশটিতে চলমান অস্থিরতার মাঝে অপহৃত হন আয়মানের বড় ভাই। পরবর্তীতে তার আর খোঁজ মেলেনি।

পরিবারের কঠিন সেই সময়ের কথা স্মরণ করে এক সাক্ষাৎকারে ইরাকি এই তারকা স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘পরিবারের দেখাশোনা করার লক্ষ্যে আমি ফুটবল খেলা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু মা রাজি হননি।’ বরং আয়মানকে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে উৎসাহ দিয়েছেন তার মা। যে স্বপ্ন তাকে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার ইরাককে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। এরপর গোল করলেন বিশ্বকাপের অভিষেকে।

সেটাই শেষ নয়, ৩০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পথেও তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিমানবন্দরে তাকে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আয়মানকে সেই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে অনুমতি না পাওয়ায় নিজ দেশে ফিরতে হয়েছে ইরাক দলের ফটোগ্রাফার তালাল সালাহকে।

ইরাকের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আয়মান হুসেইনের অভিষেক হয় ২০১৫ সালে। অস্থিরতার মাঝেও ওই সময় ফুটবলই সাধারণ মানুষের মাঝে ঐক্য ও সাময়িক স্বস্তির মুহূর্ত এনে দিতো। আয়মান ২০২৩ সাল থেকে মেসোপটেমিয়ার লায়ন্স নামে পরিচিত ইরাকি ক্লাবের ধারাবাহিক পারফর্ম করে আসছেন। হেডের মাধ্যমে গোল এবং বক্সের ভেতর তার নিখুঁত শট নেওয়ার দক্ষতাও পরিচিত করিয়েছে আয়মানকে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ঐতিহাসিক অভিযানে তিনি ইরাকের সেরা পারফর্মার ছিলেন, করেন ১২টি গোল।

নরওয়ের বিপক্ষে দলের একমাত্র গোলটি আয়মানের স্মরণীয় হলেও, তাকে হতাশায় ডোবায় নিজেদের জালে করা আত্মঘাতী গোলের জন্য। তবে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের কাছ থেকে, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে বক্সের ভেতরে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। আমি তার জন্য খুবই খুশি ও গর্বিত। মৌসুমে তার বেশ কিছু চোট ছিল। এরপরও এত শক্তি নিয়ে ৯০ মিনিট খেলা এবং গোল করা অসাধারণ ব্যাপার।’