শিরোনাম

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: শেষ মুহূর্তে বদলে যেতে পারে সব হিসাব ফিফার বিতর্কিত বিশ্বকাপ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করল আরও ৪১ দেশ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে কক্সবাজারে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর ‘জেলে নিলে জেলে যাব, মেরে ফেললে কবরে যাব’, মামলা নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

বিয়ে এবং মামলার বিষয়ে ফের মুখ খুললেন পরীমনি

দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে আলাপচারিতায় নিজের ব্যক্তিগত জীবন, আইনি লড়াই এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

এ সময় তিনি অতীতের গ্রেপ্তার, চলমান মামলা, বিয়ে এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

পরীমনির দাবি, তাকে যখন বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন সংশ্লিষ্টদের কাছে কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট বা গ্রেপ্তারের অনুমতি ছিল না। তিনি বলেন, তাকে কী কারণে নিয়ে যাওয়া হবে, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্বিধায় ছিলেন এবং সাংবাদিকদের সামনে কী বলা হবে, সে বিষয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন।

বর্তমানে চলমান মামলাকে তিনি ‘মিথ্যা মামলা’ বলে দাবি করেন। পরী বলেন, কখনো কাউকে ব্ল্যাকমেইল বা হয়রানির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। দীর্ঘ সময় পর সত্য সামনে আসতে শুরু হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে গাছ থেকে সমস্ত বোঝা নেমে গেছে। তিনি আরও জানান, দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে বছরের পর বছর আদালতে হাজিরা দিতেও তিনি প্রস্তুত, কারণ তিনি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, বিয়ে নয়, আমি একাই ভালো আছি। আর ভক্তরাও আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে নয়, বরং বাচ্চাদের সঙ্গেই বেশি দেখতে পছন্দ করেন। পুনরায় বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে রসিকতা করে পরীমনি জানান, তার ছেলে বড় হয়ে যদি কখনো তাকে বিয়ের পরামর্শ দেয় বা নিজে উদ্যোগ নেয়, তখনই তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন। শেষদিকে পরীমনি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, শুধু শিল্পী নয়, রিকশাচালক থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সব ধরনের হয়রানি ও হেনস্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

ফিফার বিতর্কিত বিশ্বকাপ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করল আরও ৪১ দেশ

বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনাকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার পর এবার মধ্য ও উত্তর আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

আগেই উয়েফা সতর্ক করে জানিয়েছিল, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে ইউরোপের ৫৫টি সদস্য দেশ বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জনের কথা বিবেচনা করবে। যদিও কনকাকাফ বয়কটের মতো কঠোর অবস্থান নেয়নি, তবে তাদের ৪১টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধিরা এক বৈঠকে প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

বৈঠক শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে কনকাকাফ জানায়, সদস্যরা প্রস্তাবটি নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাব, অস্বাভাবিকভাবে স্বল্প সময়সীমা নির্ধারণ এবং ফিফার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা বা অনুমোদন না থাকার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক বিশ্বকাপ আয়োজনের পরও নতুন ও বিদ্যমান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির অর্থায়নে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই আলোচনা ফুটবলে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও সুশাসনের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। এসব কারণেই কনকাকাফ এবং এর ৪১টি সদস্য সংস্থা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  

ফিফা সম্প্রতি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নাল, যার নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার।

সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে ২০২৭-৩১ মেয়াদে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হবে। এর পাশাপাশি সমর্থনকারী সদস্য দেশগুলোকে এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়া হবে। তবে প্রস্তাবটি ব্যর্থ হলে অনুদান সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলারে সীমাবদ্ধ থাকবে, ফলে প্রতিটি সদস্য দেশ সম্ভাব্য ৩ কোটি ডলার অতিরিক্ত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ফিফার ২১১ সদস্য দেশের ভোটে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজন হবে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন। তাই উয়েফার জন্য শুধু ইউরোপ নয়, অন্যান্য কনফেডারেশনের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ। কনকাকাফের সাম্প্রতিক অবস্থান উয়েফার বিরোধিতাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।