শিরোনাম

এমবোলোর শেষ মুহুর্তের গোলে ঘরের মাঠে জয়বঞ্চিত মেসির মায়ামি শুধু বক্তৃতা নয়, কাজ দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে: ধর্মমন্ত্রী ছয় মাসের লুটপাটে বিএনপি সরকার চোরাবালিতে পড়েছে : সারজিস জামায়াত জোটের লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি: জহির উদ্দিন স্বপন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ওমান উপসাগরে ডুবল ইরানি ট্যাংকার
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

'ফ্যামিলি টাইমে'র মাঝেও শুভশ্রীকে মিস করছেন দেব!

সিনেমার কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু অবসর পেলেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বেরিয়ে পড়েন টলিউড সুপারস্টার দেব। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ‘দেশু ৭’-এর কাজ প্রায় শেষের দিকে। তাই সুযোগ পেয়েই মা-বাবা ও বোনকে নিয়ে সপরিবারে টাকি ঘুরতে গিয়েছিলেন অভিনেতা। তবে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়েও যেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে ভুলতে পারলেন না দেব! দুই তারকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য চালাচালিতে ফের সামনে এসেছে পুরনো রসায়নের ইঙ্গিত।

শুক্রবার সন্ধ্যায় দেব ও শুভশ্রী তাঁদের আসন্ন সিনেমার প্রথম গান ‘তোর শুধু তোর’ প্রকাশের ঘোষণা দেন। দেব-শুভশ্রীর রোম্যান্টিক উপস্থিতির সেই পোস্ট ঘিরে অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে গানের ঘোষণার চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে দুই তারকার মন্তব্যের পাল্টাপাল্টি।

দেবের পারিবারিক ছুটির ছবি দেখেই পুরনো ‘ইনোসেন্স’ প্রসঙ্গ টেনে মজার ছলে অভিনেতাকে খোঁচা দেন শুভশ্রী। তিনি লেখেন, ‘ফ্যামিলি নিয়ে ব্যস্ত আছি বলে কি ভেবেছো ইনোসেন্সটা চলে গেছে দেব!’

শুভশ্রীর এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে গত বছরের একটি বিতর্ক। ‘ধূমকেতু’র প্রচারে এক সাক্ষাৎকারে দেব শুভশ্রীর চেহারায় আগের মতো ‘ইনোসেন্স’ নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন। পাশাপাশি তাঁর মা হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গও টেনেছিলেন অভিনেতা। সেই মন্তব্য নিয়ে তখন কম আলোচনা হয়নি।

এবার পুরনো সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শুভশ্রীর রসিক খোঁচার জবাবও দিয়েছেন দেব। তিনি লিখেছেন, ‘আমার চোখে নিজেকে খুঁজে দেখ, আগের মতোই আজও আছে যে সবই এক।’

তবে দেবের এই জবাব আসলে তাঁদের নতুন সিনেমার ‘তোর শুধু তোর’ গানের কথারই অংশ। তারপরও দুই তারকার এমন মজার কথোপকথন অনুরাগীদের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, তাহলে কি পুরনো সেই দেব-শুভশ্রী সমীকরণ আবারও ফিরছে?

এর আগে ‘ইনোসেন্স’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই তারকার বন্ধুত্বেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেব জানিয়েছিলেন, সেই বিতর্কের পর শুভশ্রীর ফোন নম্বর পর্যন্ত মুছে দিয়েছিলেন তিনি। পরে আবার ‘অভিনেত্রী শুভশ্রী’ নামে নম্বরটি সংরক্ষণ করেছিলেন। তবে এবার সাক্ষাৎকারে সেই নাম বদলে আবার ‘শুভ’ নামে নম্বরটি সংরক্ষণ করেন দেব।

সব মিলিয়ে নতুন সিনেমার গান প্রকাশের আগেই দেব-শুভশ্রীর ভার্চুয়াল কথোপকথন অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। শনিবার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রকাশ্যে এসেছে ‘তোর শুধু তোর’ গানের ঝলকও। সেখানে জুটির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে এমন এক বার্তা, যা তাঁদের সম্পর্কের নস্টালজিয়াকেই আরও উসকে দিয়েছে—কিছু সম্পর্ক কখনোই মিলিয়ে যায় না, শুধু ফিরে আসার পথ খুঁজে নেয়।

এখন অপেক্ষা পুজোর। বড় পর্দায় ‘দেশু’ জুটির নতুন রসায়ন দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করে, সেটিই দেখার।
 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

এমবোলোর শেষ মুহুর্তের গোলে ঘরের মাঠে জয়বঞ্চিত মেসির মায়ামি

এমএলএসে অভিষেক ম্যাচেই নায়ক হলেন ব্রিল এমবোলোর। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে আটলান্টা ইউনাইটেডকে ইন্টার মায়ামির বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্র এনে দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে মায়ামির ঘরের মাঠ নু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুই দল।

ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় আটলান্টা। শেষদিকে ফ্রিসকো কাইসেদো বক্সের মধ্যে এমবোলোকেকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় আটলান্টা। স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান সুইজারল্যান্ডের এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচের ৩২ মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে হেডে গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। তবে কয়েক মিনিট পরই সমতায় ফেরে আটলান্টা। তমাস জ্যাকবের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ক্যাসেমিরোর গায়ে লেগে বল চলে যায় আলমিরনের কাছে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গোল করেন তিনি।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আবারও এগিয়ে যায় মায়ামি। কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে গোল করেন লুইস সুয়ারেজ।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল আটলান্টা। ৭৩ মিনিটে ভিডিও রিভিউয়ের পর বক্সে আলমিরনের ওপর ক্যাসেমিরোর ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় তারা। তবে আলমিরনের নেওয়া শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন মায়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট-ক্লেয়ার।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে সফল হন এমবোলো। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মায়ামির একাধিক আক্রমণও সামাল দেয় আটলান্টার রক্ষণ। গোলরক্ষক লুকাস হোয়োস মেসির একটি শট ঠেকানোর পাশাপাশি পাওলো দিয়াজ গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে দলকে এক পয়েন্ট এনে দেন।

আগামী বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় (বাংলাদেশ সময়) অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে আটলান্টা ইউনাইটেড। আর একই দিন ভোর সাড়ে ৬টায় শিকাগোর বিপক্ষে মাঠে নামবে মায়ামি।