শিরোনাম

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হিসনা নদী খনন নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আশাশুনিতে ৩ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণ দাবি কান্নার বিশ্বকাপ, ম্যারাডোনার শেষ বিদ্রোহ রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন কোয়েল মল্লিক ‘৩০ বা ২০ শতাংশ লোপাট হয়ে গেলে বড় বাজেট করেও কোনো লাভ নেই’
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন কোয়েল মল্লিক

পশ্চিমবঙ্গের রুপালি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য কোয়েল মল্লিক। কদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, শিগগিরই রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেবেন তিনি। অবশেষে সেই গুঞ্জনকে সত্যি করে এই অভিনেত্রী রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। 

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে ইমেইল মারফত পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন কোয়েল। 

এদিকে কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে দলটির সমর্থিত প্রার্থীরাও আছেন বিপাকে। এর আগে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকও পদত্যাগ করেছেন। আর এবার কোয়েল মল্লিকের পর এখন রাজ্যসভায় দলটির ১৩ জন সদস্য থেকে বাকি থাকল ৯ জন। 

শোনা যাচ্ছে, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আরও কয়েকজন নাকি পদত্যাগ করবেন। 

যদিও এতদিন রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন একসময়ের দর্শকপ্রিয় এই অভিনেত্রী। ফলে ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় তার নাম দেখে অনেকে বেশ অবাকই হয়েছিল। পরে এপ্রিলে দিল্লি গিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন অভিনেত্রী। 

সে সময় কোয়েল বলেছিলেন, ‘অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা—এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না।’ 

কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবার রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এই অভিনেত্রী। 


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

কান্নার বিশ্বকাপ, ম্যারাডোনার শেষ বিদ্রোহ

পৃথিবী তখন আবারও বদলে যাচ্ছে। পূর্ব ইউরোপে দেয়াল কাঁপছে, রাজনৈতিক মানচিত্রে ভাঙনের শব্দ উঠছে, আর মানুষের চোখে জমে উঠছে নতুন এক অনিশ্চয়তা। সেই সময়েই ইউরোপের হৃদয়ে বসে থাকা ইতালি যেন ফুটবলের জন্য খুলে দিল এক নতুন মঞ্চ। এক শহর থেকে আরেক শহরে ছড়িয়ে থাকা স্টেডিয়াম, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর আবেগ মিলিয়ে তৈরি হলো এক বিশাল উপাখ্যান। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ ছিল শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, ছিল পরিবর্তনশীল বিশ্বের এক প্রতিচ্ছবি।

এই বিশ্বকাপকে অনেকে সৌন্দর্যের চেয়ে বেশি মনে রাখেন শৃঙ্খলার জন্য, কৌশলের জন্য, আর কঠিন বাস্তবতার জন্য। মাঠে মাঠে যেন ফুটবলের স্বাধীনতা ধীরে ধীরে রক্ষণাত্মক পরিকল্পনার দেয়ালে বন্দি হয়ে যাচ্ছিল। গোল কম ছিল, সতর্কতা বেশি ছিল, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস কম ছিল। তবু সেই কঠিন কাঠামোর মাঝেও কিছু নাম আগুনের মতো জ্বলছিল। একটি নাম ছিল দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা।

মেক্সিকোর সেই মহাকাব্যিক ১৯৮৬ বিশ্বকাপের চার বছর পর ম্যারাডোনা আবার এসেছিলেন বিশ্বমঞ্চে। কিন্তু পৃথিবী আর আগের মতো তাকে স্বাগত জানায়নি। শরীর ক্লান্ত, পায়ে আগের সেই গতি নেই, চোখে জমে আছে অসংখ্য লড়াইয়ের ক্লান্তি। তবু ম্যারাডোনার নাম উচ্চারণ করলেই গ্যালারিতে আলোড়ন উঠত। তিনি বিতর্ক, প্রতিভা আর বিদ্রোহের প্রতীক ছিলেন।

ইতালির শহরগুলোতে তখন এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব। নেপলসে ম্যারাডোনাকে দেবতার মতো পূজা করা হতো। নাপোলিকে ইতালির শীর্ষে তুলে এনে তিনি দক্ষিণ ইতালির মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের উত্তরাঞ্চলে অনেকেই তাকে দেখতেন ভিন্ন চোখে। সেই বিভক্ত ভালোবাসা পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তাকে অনুসরণ করেছে ছায়ার মতো।

আর্জেন্টিনা দলও আর আগের মতো ছিল না। কোচ কার্লোস বিলার্দোর দল ছিল রক্ষণাত্মক এবং অত্যন্ত হিসেবি। তারা শিল্প দেখানোর জন্য খেলছিল না, খেলছিল বেঁচে থাকার জন্য। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতালিতে এলেও তাদের প্রতি আস্থা ছিল কম। আর সেই সংশয়ের শুরু হয়ে যায় প্রথম ম্যাচেই।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয় আফ্রিকার নবাগত ক্যামেরুনের। সবাই ভেবেছিল ম্যারাডোনার দল সহজেই জিতে যাবে। কিন্তু ফুটবল অন্য গল্প লিখল। দশজনের ক্যামেরুন অসাধারণ লড়াই করে ১-০ গোলে হারিয়ে দিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফ্রাঁসোয়া ওমান বিয়িকের সেই হেডার শুধু একটি গোল ছিল না, ছিল পুরো বিশ্বকাপের প্রথম বড় বিস্ময়। ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনার মুখে হতাশার এক অশুভ ইঙ্গিত ছিল।

অন্যদিকে স্বাগতিক ইতালি শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল। প্রথম ম্যাচে তারা অস্ট্রিয়াকে ১-০ গোলে হারায়। সেই ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে গোল করেন সালভাতোরে শিল্লাচি। বিশ্বকাপের আগে যার নাম খুব কম মানুষ জানত, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠলেন পুরো ইতালির হৃদস্পন্দন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রকে ১-০ এবং চেকোস্লোভাকিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতালি গ্রুপপর্ব শেষ করে শতভাগ সাফল্য নিয়ে।

শিল্লাচি তখন ইতালির নতুন নায়ক। রাস্তায়, ক্যাফেতে, সংবাদপত্রের পাতায়, মানুষের মুখে মুখে শুধু তার নাম। কেউ তাকে আগে গুরুত্ব দেয়নি, অথচ এখন মনে হচ্ছিল পুরো জাতির স্বপ্ন তার কাঁধে।

অন্যদিকে পশ্চিম জার্মানি শুরু থেকেই নিজেদের শক্তির পরিচয় দিচ্ছিল। লোথার ম্যাথাউসের নেতৃত্বে তারা ছিল ইস্পাতের মতো দৃঢ়। যুগোস্লাভিয়াকে ৪-১, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫-১ গোলে হারিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছিল, শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার তারাই। ম্যাথাউস তখন শুধু একজন অধিনায়ক নন, পুরো দলের চালিকাশক্তি।

ব্রাজিলও এগিয়ে যাচ্ছিল নীরবে। কারেকা, মুলার, ডুঙ্গাদের দল হয়ত ১৯৮২ বা ১৯৮৬ সালের মতো মোহময় ছিল না, কিন্তু ছিল কার্যকর। তারা ফল আদায় করতে জানত। তবে ফুটবল কখনও শুধু ফলের খেলা নয়। সৌন্দর্য হারালে দর্শকের হৃদয়ও অনেক সময় দূরে সরে যায়।

বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছিল, ততই স্পষ্ট হচ্ছিল যে এটি গোলের নয়, স্নায়ুর টুর্নামেন্ট। প্রতিটি ম্যাচে মনে হতো একটিমাত্র ভুল সব স্বপ্ন ধ্বংস করে দিতে পারে। মাঠে কৌশলের প্রাধান্য বাড়ছিল, রক্ষণভাগগুলো হয়ে উঠছিল আরও কঠিন।

আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে নিজেদের খুঁজে পেতে শুরু করল। সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে ম্যারাডোনা গোললাইন থেকে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেছিলেন। সেটি ছিল বিতর্কিত, কিন্তু সেটিই ছিল ম্যারাডোনা। নিয়মের সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এক চিরন্তন বিদ্রোহী।

গ্রুপপর্ব পেরিয়ে আর্জেন্টিনা যখন নকআউটে পৌঁছাল, তখন বোঝা যাচ্ছিল তারা নিখুঁত নয়। কিন্তু তাদের মধ্যে ছিল বেঁচে থাকার অদম্য ক্ষমতা। ব্রাজিলের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে দীর্ঘ সময় চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল একের পর এক আক্রমণ করছিল। পোস্টে বল লাগছিল, সুযোগ নষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনার বিদায় সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু ম্যারাডোনা ছিলেন এখনও মাঠে।

একটি মুহূর্তই যথেষ্ট ছিল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে তিনি কয়েকজনকে কাটিয়ে সামনে এগিয়ে গেলেন। তারপর নিখুঁত পাস বাড়ালেন ক্লদিও কানিজিয়ার দিকে। কানিজিয়া গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠালেন। আর্জেন্টিনা জিতল ১-০ গোলে।

সেই গোল ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় মুহূর্ত। পুরো ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও এক মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে আনার ক্ষমতা কেবল মহান দলগুলোরই থাকে।

কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল যুগোস্লাভিয়া। কঠিন, স্নায়ুচাপের ম্যাচ। গোলশূন্য ড্রয়ের পর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আবারও জিতে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনা নিজের শট মিস করলেও দল থামেনি। তারা পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে।

সেমিফাইনালে অপেক্ষা করছিল স্বাগতিক ইতালি। নেপলসের সান পাওলো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ ছিল শুধুই ফুটবল ম্যাচ নয়। ছিল আবেগ, রাজনীতি, পরিচয় আর ভালোবাসার সংঘর্ষ। ম্যারাডোনা ম্যাচের আগে নেপলসের মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, উত্তর ইতালি যাদের সবসময় অবহেলা করেছে, আজ তাদের সমর্থন কোথায় থাকবে?

ইতালি এগিয়ে যায় শিল্লাচির গোলে। পুরো স্টেডিয়াম গর্জে ওঠে। কিন্তু আর্জেন্টিনা হাল ছাড়েনি। ক্লদিও কানিজিয়া হেড করে সমতা ফেরান। এরপর টাইব্রেকার। সেখানেই ভেঙে যায় ইতালির স্বপ্ন। আর্জেন্টিনা জিতে যায় এবং ফাইনালে উঠে যায়।

সেই রাতে নেপলসের মানুষ ম্যারাডোনাকে বীরের মতো বিদায় জানায়। কিন্তু ইতালির অনেক অংশে তিনি হয়ে ওঠেন খলনায়ক।

ফাইনালে প্রতিপক্ষ আবার পশ্চিম জার্মানি। চার বছর আগে মেক্সিকোতে এই দুই দলের লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার প্রতিশোধের আগুন নিয়ে নেমেছিল জার্মানরা।

রোমের স্টাডিও অলিম্পিকোতে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনাল ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও রক্ষণাত্মক ফাইনালগুলোর একটি। আর্জেন্টিনা দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে দশজন, পরে নয়জনে নেমে আসে। ম্যাচে সৌন্দর্যের চেয়ে স্নায়ুচাপ ছিল বেশি।

তারপর এলো সেই মুহূর্ত। ম্যাচের শেষ দিকে জার্মানি পায় পেনাল্টি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে। আন্দ্রেয়াস ব্রেমে বল হাতে নিলেন। পুরো স্টেডিয়াম নিস্তব্ধ।

ব্রেমে শট নিলেন। বল জালে। পশ্চিম জার্মানি এগিয়ে গেল ১-০ গোলে। সেই গোলই নির্ধারণ করে দিল বিশ্বকাপের ভাগ্য।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে জার্মান খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে উঠল। লোথার ম্যাথাউস আকাশের দিকে হাত তুললেন। ফ্রানৎস বেকেনবাওয়ার ইতিহাস গড়লেন খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ী হিসেবে।

আর অন্যদিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন ম্যারাডোনা। ক্যামেরা যখন তার মুখের দিকে গেল, দেখা গেল তিনি কাঁদছেন। সেটা শুধু একটি ম্যাচ হারের কান্না ছিল না। সেটা ছিল এক যুগের কান্না। একজন মানুষ বুঝতে পারছিলেন, তার সাম্রাজ্যের সূর্য ধীরে ধীরে অস্ত যাচ্ছে।

১৯৯০ সালের সেই কান্নার ছবি আজও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যগুলোর একটি। তিনি ট্রফি জিততে পারেননি। তিনি আগের মতো উজ্জ্বলও ছিলেন না। কিন্তু তিনি আবারও প্রমাণ করেছিলেন, ভাঙা শরীর নিয়েও একজন মানুষ কীভাবে পুরো একটি জাতির স্বপ্ন বয়ে নিয়ে যেতে পারে।

স্টেডিয়ামের আলো নিভে গিয়েছিল, দর্শকেরা ঘরে ফিরেছিল, বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইতালির রাতের আকাশে যেন একটি প্রশ্ন অনেক দিন ভেসে ছিল—একজন মানুষ কত দূর পর্যন্ত একা লড়তে পারে?

সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই ফুটবল বুঝেছিল, ম্যারাডোনা শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না। তিনি ছিলেন এক আবেগ, এক বিদ্রোহ, এক অসমাপ্ত কবিতা। আর ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপ ছিল সেই কবিতার সবচেয়ে বেদনাময় অধ্যায়।