শিরোনাম

নারীবাদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, জবাবে যা বললেন নোরা ফাতেহি পরীক্ষায় তুমিও ফেল, ৬ মাস পর আমিও ফেল: শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশসহ ১৭ দেশে পুনরায় এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট চালু বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বিশাল নিয়োগ, নেবে ৪৫০ জন  হরমুজে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি
ছবি: সংগৃহীত।

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’


‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’


‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’
‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’


‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’


‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

নারীবাদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, জবাবে যা বললেন নোরা ফাতেহি

বলিউডের মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি 'নারীবাদ সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে'—এমন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে বিতর্কের ঝড় ওঠে। কয়েক দিন ধরে অভিনেত্রীর নারীবাদ মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক জলঘোলা হচ্ছে। এবার লিলি সিংয়ের পডকাস্টে নোরা ফাতেহি তার নারীবাদ বিষয়ে যে মন্তব্য ছিল, তা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলেন। তার মন্তব্যকে প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা হয়েছে এবং বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলেও জানান নোরা ফাতেহি।

এর আগে রণবীর আল্লাহবাদিয়ার পডকাস্টে এসে নারীবাদ নিয়ে কথা বলেছিলেন অভিনেত্রী। তিনি বলেছিলেন—'আমার কাউকে দরকার নেই, এই যে ধারণা— নারীবাদ। আমি এসব ফালতু জিনিসে বিশ্বাস করি না। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয়, নারীবাদ আমাদের সমাজকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।' তার এ মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল।

নোরা ফাতেহি বলেন, গত বছর আমি একটি পডকাস্টে নারীবাদ নিয়ে কথা বলেছিলাম। তারপর রিলস ও টিকটকে কিছু ছোট ছোট ক্লিপ বেরিয়ে আসে, আর সেগুলো ভাইরাল হয়ে যায়। 

তিনি বলেন, নেটিজেনরা মূল বিষয়টাই বুঝতে পারেননি। আমি যেটার পক্ষে কথা বলি তা হলো—চরমপন্থা এমন একটা বিষয়, যার আমি পুরোপুরি বিরোধী। আমি সিঙ্গেল প্যারেন্টের সন্তান। আমি সেই পরিবারের থেকেও কোনো আরেকজন অভিভাবকের অভাব বোধ করিনি।

অভিনেত্রী বলেন, কিন্তু আমি জানি দুজন অভিভাবকের উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেটা একজন মা ও একজন বাবাই হোক কিংবা দুজন মা বা দুজন বাবা। আমি এসব কিছুরই পক্ষে কথা বলেছিলাম।

তিনি বলেন, আমি এমন একটা পরিবারে থাকতে পছন্দ করব, যেখানে দুজন অভিভাবক থাকবেন। কারণ অবশেষে সেই মানসিক বোঝা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও বয়ে বেড়াতে হয়। আমি চাই না, আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি, যেখানে মানুষ আর সিঙ্গেল প্যারেন্টের পরিবার নিয়ে ভাবে না। 

নোরা ফাতেহি বলেন, আমি চাই আমরা ভারসাম্যের পক্ষে কথা বলি, নিজের টাকা উপার্জন করি, স্বপ্নপূরণ করি এবং কঠোর পরিশ্রম করি। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা এমন একটা পরিবেশ তৈরি করি, যেখানে পুরুষরাও জবাবদিহি করবে। যেখানে তারাও এগিয়ে এসে দায়িত্ব নেবে। আমরা কেন স্বাধীন ও শক্তিশালী হয়েও একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হতে পারি না বলেও জানান তিনি। 

নোরা ফাতেহি বলেন, আমরা কেন শেয়ার করে নিয়ে ভারসাম্য তৈরি করতে পারি না? আমরা এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছি, যেখানে আমরা এতটাই স্বাধীন যে, আমার তোমাকে প্রয়োজন নেই। আমরা কেন স্বাধীন, শক্তিশালী হয়েও কারুর ওপর নির্ভরশীল হতে পারি না? কেন সে এগিয়ে এসে শেয়ার করে নিয়ে ভারসাম্য আনতে পারে না?


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

লিভারপুলের বিপক্ষে একচেটিয়া আক্রমণে পিএসজির জয় 

ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া লিভারপুলের বিপক্ষে একচেটিয়া আক্রমণে জয় পেলো পিএসজি। বুধবার (৮ এপ্রিল) ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে জয় তাদের ২-০ ব্যবধানে। এই জয় সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে রাখলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের।   

প্যারিসের মাঠে শুরু থেকে পজিশন রাখায় একচেটিয়া চাপ ধরে রেখে একাদশ মিনিটে লিভারপুলের জালে বল পাঠান পিএসজির দিজিরে দুয়ে। ৩২ মিনিটে খাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়ার শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি গিওর্গি মামার্দাশভিলি। পাঁচ মিনিট পর দুয়ের প্রচেষ্টাও রুখে দেন লিভারপুলের জর্জিয়ান গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ ধরে রাখে স্বাগতিকরা। উগো একিটিক ও উসমান দেম্বেলের সুযোগ মিসের পর ৬৫ মিনিটে খাভিচা অসাধারণ নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়ান। বা-পাশের সাইডলাইন থেকে জোয়াও নেভেসের রক্ষণচেরা পাস পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে গোলটি করেন জর্জিয়ান উইঙ্গার। বাকি সময়ে গোলের সুযোগ পেয়েও জয়ের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি গত মৌসুমে প্রথমবার ইউরোপসেরার ট্রফি ঘরে তোলা প্যারিসের ক্লাবটি। সারা ম্যাচে পিএসজি অধিনায়ক দেম্বেলে একাই নষ্ট করেন তিনটি সুযোগ। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি অর বিজয়ী এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের জোরালো শট নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগে পোস্টে বাধা পায়। আগামী মঙ্গলবার লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে হবে ফিরতি লেগ কোয়ার্টার ফাইনাল।