শিরোনাম

জিজ্ঞাসা: শুক্রবার মারা গেলে কবরের আজাব হয় না? জনবল নেবে ওয়ান ব্যাংক, ৪০ বছরেও আবেদনের সুযোগ আমরা নাকি লংমার্চের নামে লংড্রাইভ করছি: সারজিস এবার ‘লালপরী’ হয়ে পর্দায় আসছেন স্পর্শিয়া ক্রিকেটের উন্নতি করতে না পারলে সরে দাঁড়ান: আজহার আলী
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

এবার ‘লালপরী’ হয়ে পর্দায় আসছেন স্পর্শিয়া

এবার নতুন এক গল্প নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া। পরী কি শুধুই রূপকথার গল্পে থাকে, নাকি আমাদের আশপাশেও ঘুরে বেড়ায়?— এমনই এক রহস্যময় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে নতুন নাটক ‘লালপরী’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে ‘লালপরী’র একটি রহস্যময় অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ হয়েছে। 'ফাস্টলুক' প্রকাশে পোস্টারে ফুটে ওঠা পরীর মতো আবহ এবং অভিনেত্রীর রহস্যময় ক্যাপশনকে ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। সেই পোস্টারটি শেয়ার করে অর্চিতা স্পর্শিয়া প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লিখেছেন— ‘পরী কি শুধু রূপকথাতেই থাকে? নাকি বাস্তবেও তারা ঘুরে বেড়ায় আমাদের আশপাশেই?’ তার এই প্রশ্নই যেন ‘লালপরী’র গল্প নিয়ে রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জোবায়ের আবীর পিয়ালের পরিচালনায় নির্মিত ‘লালপরী’ নাটকে অভিনয় করেছেন অর্চিতা স্পর্শিয়া ছাড়াও ফররুখ আহমেদ রেহান। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই নাটকটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল।

‘লালপরী’ নাটক নিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার করে স্পর্শিয়া বলেন, ‘লাল পরী’ কোনো সিনেমা বা ওয়েব ফিল্ম নয়, এটি একটি নাটক। এ নাটকটিতে আমার বিপরীতে সহশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন রেহান।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এ নাটকের ফাস্টলুক প্রকাশের পর অভিনেত্রীর নতুন চরিত্র ও নাটকটির আবহ নিয়ে প্রশংসা করেছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। তবে ‘লালপরী’র গল্পের আসল চমক জানতে দর্শকদের আরও অপেক্ষা করতে হবে এর ট্রেলার প্রকাশ পর্যন্ত বলে জানিয়েছে প্রযোজনা কর্তৃপক্ষ।

তবে গল্পের বিষয়বস্তু নিয়ে জানতে চাইলে আপাতত বিস্তারিত জানাতে চাননি অর্চিতা স্পর্শিয়া। এ অভিনেত্রী বলেন, ‘গল্পের বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। কারণ মাত্রই আমাদের ‘ফাস্টলুক’ প্রকাশ পেয়েছে। ট্রেলার প্রকাশের পরই হয়তো গল্প নিয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

ক্রিকেটের উন্নতি করতে না পারলে সরে দাঁড়ান: আজহার আলী

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আজহার আলী জাতীয় দলের কোচ ও নির্বাচক আকিব জাভেদকে দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় নিতে বলেছেন। তিনি বলেন, আকিব যদি পাকিস্তান ক্রিকেটে উন্নতি আনতে না পারেন, তাহলে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।

একটি ব্রিটিশ সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজহার গত তিন বছরে পাকিস্তান ক্রিকেটে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে দলের দুরবস্থার জন্য অন্যদের দায়ী করার আগে আকিবকে নিজের ভূমিকা মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

আজহারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘আকিব জাভেদের প্রথমে নিজের ভূমিকা নিয়ে ভাবা উচিত। তিনি যদি ক্রিকেটে উন্নতি আনতে না পারেন, তাহলে তার সরে দাঁড়ানো উচিত।’

সাবেক এই অধিনায়ক আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের চলমান সংকটের দায় সাবেক ক্রিকেটারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন আকিব। বিশেষ করে সরফরাজ আহমেদ ও বাবর আজমের মতো সাবেক অধিনায়কদের দিকে দায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আজহার বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি ইঙ্গিত দেন, জাতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য এর চেয়ে খারাপ সময় হয়ত আর হতে পারে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাবর আজমের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট ধীরে ধীরে দর্শক ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ হারাচ্ছে। দলের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।