শিরোনাম

সৌদি-ইয়েমেন সংকট সমাধানে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত ইরান লিঁওতে ফেরার ইচ্ছা ছিল বেনজেমার, বাধা সৌদি চুক্তি ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখতে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরছেন প্রধানমন্ত্রী মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া কক্সবাজারে মেরিনড্রাইভে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, নিহত ৫
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

৪০০ পরিবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা

সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি মানবিক কাজের হাত বাড়িয়ে দিলেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা।  আসন্ন সিনেমা ‘রানা বালি’ মুক্তির আগে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

একযোগে ৪০০টি পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আগামী এক বছর ধরে প্রতি তিন মাস অন্তর ওই পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য খরচের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খুশির খবর ভক্তদের জানিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই।

ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্টে রাশমিকা জানান, আসন্ন ছবি ‘রানা বালি’-তে তার অভিনীত চরিত্র ‘জায়াম্মা’-র সঙ্গে বাস্তব জীবনের অনেক মিল রয়েছে। বিশেষ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ বা ইচ্ছা তাদের দুজনের মধ্যেই একরকম।

নিজের এই উদ্যোগ জনসমক্ষে আনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দেন, তার বিনিময়ে আমি সবসময় এমন কিছু না কিছু করার চেষ্টা করি। তবে এতদিন এগুলো একান্ত গোপনেই রাখতাম। ভাবতাম, আমি, আমার টিম আর অল্প কিছু মানুষ জানলেই তো যথেষ্ট। কিন্তু এবার আমি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনছি এই ভেবে যে, যদি এটি আমার প্রিয় ভক্তদের কাউকে এমন ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করতে পারে, তবে আমি অত্যন্ত খুশি হবো’।

অভিনেত্রী জানান, এই সহায়তার মাধ্যমে ওই পরিবারগুলোকে প্রতিবার তিন মাস করে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। এর ফলে ওই পরিবারগুলো নিত্যপণ্যের খরচের টাকা জমিয়ে সেই অর্থ দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও ভালোভাবে সাজাতে পারবে।

ভক্তদের উদ্দেশে ছোট ছোট ভালো কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোট একটি সদয় কাজও মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, আর এর জন্য সেটি বিশাল কিছু হতে হবে না। চলুন, আমরা সবাই ছোট কিছু দিয়েই শুরু করি!’

নিজের কর্মজীবন ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী বলেন, এই পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটার দৃশ্যই তার এত বছরের সব কষ্ট সার্থক করে তুলেছে।

‘বিশ্বাস করুন, এই মানুষগুলোর মুখের হাসিই আমার গত কয়েক বছরের কর্মজীবনের প্রতিটি ঘুমহীন রাত, আঘাত, সংগ্রাম, কষ্ট এবং চোখের পানির মূল্য ফিরিয়ে দেয়। এটি একেবারেই অমূল্য’, যোগ করেন তিনি।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি কোন কোন খাদ্যসামগ্রী দান করবেন, তার একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

লিঁওতে ফেরার ইচ্ছা ছিল বেনজেমার, বাধা সৌদি চুক্তি

শৈশবের ক্লাব লিঁওতে ফেরার কথা দীর্ঘদিন ভেবেছিলেন করিম বেনজেমা। সৌদি আরবে আল-হিলালের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর ফরাসি ক্লাবটিতে আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন তার সাবেক এজেন্ট।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেনজেমার সাবেক এজেন্ট দজিরি জানান, লিঁওতে ফেরার বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন চিন্তা করেছিলেন ৩৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। কিন্তু সৌদি আরবের সঙ্গে তাঁর চুক্তি থাকায় গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ফ্রান্সে ফেরা সম্ভব হয়নি।

দজিরি বলেন, ‘এ গ্রীষ্মে তার পক্ষে ফেরা অসম্ভব ছিল, কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে। লিঁওতে ফেরার কথা তিনি দীর্ঘদিন ভেবেছেন। এটি তার শহর, তার দল, তার ক্লাব।’

লিঁওর একাডেমি থেকেই উঠে এসেছিলেন বেনজেমা। ২০০৯ সালে সেখান থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন তিনি। স্প্যানিশ ক্লাবটিতে কাটান টানা ১৪ মৌসুম। জেতেন অসংখ্য শিরোপা, প্রতিষ্ঠা করেন নিজেকে বিশ্বসেরাদের একজন হিসেবে। ২০২৩ সালে সৌদি আরবে যাওয়ার আগে পেশাদার ক্যারিয়ারে খেলেছেন মাত্র দুটি ক্লাবে- লিঁও ও রিয়াল মাদ্রিদ।

বেনজেমার ক্যারিয়ারের এই ধারাবাহিকতাকে বিরল বলে মনে করেন তার সাবেক এজেন্ট। দজিরি বলেন, ‘অনেক খেলোয়াড়ের মতো নয়, করিম মাত্র দুটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। বর্তমান সময়ে এমন সরল ও ধারাবাহিক ক্যারিয়ার খুবই বিরল।’