শিরোনাম

নৌপরিবহনমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ শান্তি আলোচনা যখন ব্যর্থ হচ্ছিল, ট্রাম্প তখন কুস্তি খেলা দেখছিলেন ঢাকার দুই সিটিতে টিকা দেওয়া হলে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুই মাস পর দেশে ফিরলেন সামিরা মাহি, যাত্রাপথে ‘অপ্রত্যাশিত বিশ্বভ্রমণ’ ব্রাজিল দলে ফিরতে নেইমারকে যে শর্ত দিলেন কোচ
ছবি: সংগৃহীত।

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’


‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’


‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’
‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’


‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’


‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

দুই মাস পর দেশে ফিরলেন সামিরা মাহি, যাত্রাপথে ‘অপ্রত্যাশিত বিশ্বভ্রমণ’

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি দীর্ঘ দুই মাস পর দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার অভিজ্ঞতা তিনি শেয়ার করেছেন নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে, যেখানে ভ্রমণজটিলতার এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

স্ট্যাটাসে মাহি জানান, সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে গিয়ে তার যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। যেখানে পরিকল্পনা ছিল মাত্র এক ঘণ্টার ট্রানজিট, সেখানে বাস্তবে তাকে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার লে-ওভার। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে পুরো ভ্রমণই যেন এক ‘বিশ্বভ্রমণে’ পরিণত হয়েছিল।

তিনি লেখেন, দীর্ঘ ফ্লাইট, তার থেকেও দীর্ঘ গল্প আর নির্ঘুম সময় কাটলেও স্মৃতিতে ভরপুর হয়ে গেছে তার ক্যামেরা রোল—বিশেষ করে বিমানবন্দরের নানা মুহূর্তে তোলা ছবিতে।

মাহির এই পোস্টের সঙ্গে শেয়ার করা ছবিগুলোও ইতোমধ্যে ভক্তদের নজর কাড়ে। ক্লান্তিকর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকলেও দেশে ফেরার আনন্দই যেন ছাপিয়ে গেছে সবকিছু।

উল্লেখ্য, সামাজিক মাধ্যমে বেশ সক্রিয় এই অভিনেত্রী নিয়মিতই নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

ব্রাজিল দলে ফিরতে নেইমারকে যে শর্ত দিলেন কোচ

নেইমারের ব্রাজিল অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবার নতুন এক চমক দিলেন। বিশ্বকাপের মাত্র দুই মাস আগে তিনি জানিয়েছেন, নেইমার এখনো দলে জায়গা পেতে পারেন।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আনচেলত্তি সরাসরি বলেছেন, ‘তার কাছে দুই মাস আছে প্রয়োজনীয় গুণ দেখানোর।’ তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, তার চোখে নেইমারের ফর্মে ফেরাটা বেশ ভালো হয়েছে।

সমস্যা হলো নেইমারের ফর্ম ধরে রাখাটা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হাঁটুতে গুরুতর চোট পাওয়ার পর থেকে নেইমার ব্রাজিলের হয়ে আর মাঠে নামেননি। ক্লাব ফুটবলে ফিরলেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি।

তবে নেইমার সাধারণ কোনো খেলোয়াড় নন। ৭৯ গোল নিয়ে তিনি ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সম্প্রতি ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের ম্যাচেও দর্শকরা তার নাম ধরে স্লোগান দিয়েছেন। আনচেলত্তি এখন স্বীকার করছেন, নেইমারের প্রতিভা বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই বিশ্বকাপ হতে পারে নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় মঞ্চ। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। ব্রাজিলের গ্রুপে আছে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। নেইমার থাকলে দলটি একটি ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

কিন্তু সময়মতো ছন্দে ফিরতে না পারলে দলে ফেরা হবে না। সেক্ষেত্রে ক্যারিয়ার তো শেষই, এই বিশ্বকাপ হয়ে থাকবে নেইমারের অনন্ত আক্ষেপের নাম।