শিরোনাম

কুষ্টিয়া প্রেম সম্পর্কের বিরোধে ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীর আত্মহ/ত্যা দুর্নীতি মামলায় শাহবাজ শরিফের মেয়ে ও জামাতার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে সুসংবাদ দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রক্ষা পেল মেরিন ড্রাইভের তিন হাজার গাছ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকির ভিত্তি নেই: র‍্যাব
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

স্কুলে ছুটির ঘন্টা, বাথরুমে আটকা পড়ে থাকলেন শিশু

বিকাল ৪ টা বিদ্যালয়ে ছুটির ঘন্টা পড়ে গেছে। বিদ্যালয়ে সকলে বের হয়ে গেলেও বাথরুমে আটকা পড়েন তৃতীয় শ্রেণীর সাদিয়া নামের এক  শিক্ষার্থী। ঘটনাটি মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।


আটকে থাকার কয়েক ঘন্টা পর পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক এঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া  স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রাণসংকটে পড়ে। সময় গড়াতে থাকলে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই হৃদয়বিদারক চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি সামনে আসে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। খোঁজ নিতে এসে তিনিও স্থানীয়দের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায়, স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল প্রায় চারটার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়। 


ঘটনাটি রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও,  আর কোনো কল রিসিভ করা হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।'

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

আপনারা তো চোখ দিয়েই রেপ করে দেন, বিজেপিকে রূপাঞ্জনা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে সব জায়গায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার। এমন সময় ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এসে রূপাঞ্জনা দাবি করলেন যে, রীতিমতো ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাকে।

তার দাবি, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের পর সাবেক দল থেকে বহু কটূক্তি এসেছে তার দিকে। সব উড়িয়ে দিলেও ধর্ষণের হুমকি পেয়েছেন তিনি।

লাইভে এসে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, শুধু সমালোচনা নয়, তাকে সরাসরি ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ এবং বিষয়টিকে আর হালকাভাবে নিচ্ছেন না। এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন রূপাঞ্জনা।

প্রশ্ন তুলে রূপাঞ্জনা বলেন, ‘দীর্ঘ ২৫ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা শক্ত করেছি। একজন সফল নারী হিসেবে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছি। সব কিছুর ঊর্ধ্বে আমি একজন নারী। আর একজন নারীর প্রতি এমন নিম্নরুচির মন্তব্য কীভাবে সম্ভব বিজেপি? সেটা বুঝে আসে না।’

বিজেপিকে উদ্দেশ্যে করে রূপাঞ্জনা বলেন, ‘সাচ্চা বাঙালিকে ভয় দেখাতে আসবেন না। আপনারা তো চোখ দিয়েই রেপ করে দেন। তারপর নির্লজ্জের মতো ধর্ষণ নিয়ে কথা বলেন। নারী সুরক্ষা নিয়ে কথা বলেন অথচ একজন নারীকে সোশাল মিডিয়ায় ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছেন। যে ভাষা ব্যবহার করেন, অশালীন গালিগালাজ করেন তাতেই বোঝা যাচ্ছে ক্ষমতায় এলে কী পরিণতি হবে।’

কঙ্গনা ও মন্দাকিনীর কথা উল্লেখ করে রূপাঞ্জনা বলেন, ‘বিজেপির গুণ্ডা কালচার ছাড়া এটা আর কিছুই নয়। আবারও বলছি সাহস থাকলে সামনে এসে হুমকি দিন। এখন তো কঙ্গনা, মন্দাকিনী থেকে শুরু করে বিহারে ভোজপুরী তারকাদের নিয়ে তাসা পার্টিতে ব্যস্ত। একটা কথা শুনে রাখুন যারা আমাকে আক্রমণ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করবো। পশ্চিমবঙ্গকে কখনই উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর বা গুজরাট হতে দেব না।’ 


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

ক্লাব বেঁচে থাকলে খেলোয়াড়রা বেঁচে থাকবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের ক্লাবগুলোকে রাজনীতিকরণ ও দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ ধানমন্ডিতে আবাহনী লিমিটেড পরিদর্শনে গিয়ে বলেছেন এমনটাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ক্লাবটিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে ক্রীড়া কার্যক্রম পুরোদমে চালুর বিষয়ে ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি।

আবাহনী ও মোহামেডানকে দেশের ফুটবলের মেরুদণ্ড উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে আবাহনী ক্লাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য ক্লাবগুলো রাজনীতির বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। মোহামেডান–আবাহনী এবং বাংলাদেশের ফুটবলের যে ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্য যাতে কখনোই কোনো কারণে রাজনৈতিক কারণে ভবিষ্যতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়গুলো আমরা আজকে ইতিমধ্যে আমি আলোচনা করেছি।’

অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রীর, ‘বিগত সময় কী হয়েছে সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করব না, তবে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। যাতে সামনের দিকে আর কখনো কোনো ভুল না হয় এবং আবাহনী ক্লাব স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।’

খেলোয়াড়দের কল্যাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা চাই যে ক্লাব যদি বেঁচে থাকে তাহলেই কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রা বেঁচে থাকবে। কারণ ক্লাব যদি ঠিক না থাকে তাহলে কিন্তু খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তৃণমূলের খেলাধুলা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২ মে থেকে ৬৪ জেলায় কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস; কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া ক্লাবগুলোর আর্থিক অস্বচ্ছলতা দূর করতে করপোরেট হাউসগুলোর সহযোগিতা এবং নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, ‘ভবিষ্যতে কোনো ক্লাব যাতে আর কোনো রাজনীতিকরণ করা না হয়, ক্লাবকে যাতে আবার দলীয়ভাবে কোনো ব্যবহার করা না হয়, এ বিষয়ে আমরা সবাই সতর্ক থাকব। এবং আমার সাংবাদিক ভাইদেরও আমি সার্বিক সহযোগিতা চাই ইনশাল্লাহ।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্লাব পরিদর্শনকালে আবাহনী ও মোহামেডান ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল উপস্থিত ছিলেন। ক্লাবটির বর্তমান ফুটবলাররা ফুল দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করে নেন এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে সম্মানসূচক জার্সি উপহার দেওয়া হয়।