শিরোনাম

টিকটকে আসছে সরাসরি টাকা পাঠানোর সুবিধা কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ যুদ্ধে সেনাদের মনোবল বাড়াতে পুতিনের নতুন অস্ত্র ৬০০ বছর আগের এক বস্তা হাড়গোড় সারাদেশে আজ থেকে কলেরা টিকা ক্যাম্পেইন শুরু সোনারগাঁও হোটেলে জব সার্কুলার, আবেদন শেষ ৩১ আগস্ট
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

দীপিকার বিরুদ্ধে গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

প্রভাস অভিনীত ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে দীপিকা পাড়ুকোনের সরে যাওয়া নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সিনেমাটির পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ভাই প্রণয় রেড্ডি ভাঙ্গা দাবি করেছেন, দীপিকা পারিশ্রমিকের পাশাপাশি সিনেমার লাভের ১০ শতাংশ চেয়েছিলেন। এ ছাড়া কাজের সময় নিয়েও মতবিরোধ ছিল। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন দীপিকা সিনেমার গল্প ফাঁসও করেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ‘স্পিরিট’ নিয়ে কথা বলেন প্রণয়। তিনি বলেন, দীপিকার পারিশ্রমিক, কাজের সময় এবং সিনেমার অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরে তাকে নিয়ে আর এগিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রণয়ের দাবি, দীপিকা সিনেমার মুনাফার ১০ শতাংশ চেয়েছিলেন। তবে প্রযোজনার বাজেট ও আর্থিক হিসাব বিবেচনায় সেই দাবি পূরণ করা সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, “তিনি যেকোনো কিছু চাইতে পারেন। আমরা দিতে রাজি থাকলে দিতে পারি। কিন্তু সিনেমার বাজেট ও অর্থনৈতিক হিসাবও আমাদের জন্য ঠিকঠাক হতে হবে। আমাদের মনে হয়েছে, সেটি সম্ভব হচ্ছিল না।”

প্রণয় আরও দাবি করেন, দীপিকার সঙ্গে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সিনেমার গল্প ও চরিত্র নিয়ে আলোচনা করেছিল টিম। পরে সেই আলোচনার কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট হন বলে জানান তিনি।

তার ভাষায়, “আমরা তার সঙ্গে গল্প ও চরিত্র নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। অভ্যন্তরীণভাবে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, সেগুলো প্রকাশ করা উচিত নয়। কিন্তু তিনি সেগুলো ফাঁস করেছেন।”

প্রণয় জানান, দীপিকার সঙ্গে মতবিরোধ শুধু অতিরিক্ত ৫–৬ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়ে ছিল না। পারিশ্রমিক, কাজের সময় ও লাভের অংশ, সব মিলিয়েই আলোচনা জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।

দীপিকা ‘স্পিরিট’ থেকে সরে যাওয়ার পর তার জায়গায় তৃপ্তি দিমরিকে নেওয়া হয়। সিনেমাটিতে প্রভাসের বিপরীতে অভিনয় করছেন তৃপ্তি। এর আগে ‘স্পিরিট’-এ দীপিকার আট ঘণ্টার কাজের সময় চাওয়া নিয়েও আলোচনা হয়। দীপিকা পরে জানিয়েছিলেন, আট ঘণ্টার শিফট চাওয়া তার কাছে অযৌক্তিক নয়। পুরুষ অভিনেতারাও দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মঘণ্টায় কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

এদিকে, সিনেমার গল্পের কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা। তিনি দাবি করেছিলেন, একজন অভিনেতাকে সিনেমার গল্প বলার সময় যে আস্থা রাখা হয়, তা বজায় রাখা হয়নি।

‘স্পিরিট’ পরিচালনা করছেন সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা। প্রভাস ও তৃপ্তি দিমরি অভিনীত সিনেমাটি ২০২৭ সালের মার্চে মুক্তির কথা রয়েছে।

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কুইন সুলিভানকে চড় মেরে শাস্তি পেলেন মেসি

‘সুলিভান ব্রাদার্স’ বাংলাদেশ ফুটবলে পরিচিত নাম। লাল-সবুজ জার্সিতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলে খেলেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক রোনান সুলিভান ও ডেকলান সুলিভান। তাদের বড় দুই ভাই গত বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হয়েছিলেন লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির। এমনকি আর্জেন্টাইন মহাতারকার সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও জড়ান কুইন সুলিভান।

ওই সময় কুইনের মাথার পেছন দিকে চড় মারেন মেসি। যে কারণে ইন্টার মায়ামির অধিনায়ককে জরিমানা করেছে মেজর লিগ সকার (এমএলএস) কর্তৃপক্ষ। ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ে ঘটে আরেকটি হাতাহাতির ঘটনা। যেখানে সম্পৃক্ত থাকায় আরেক সুলিভান ভাই কাভান সুলিভানকে লাল কার্ড দেখানো হয়। একই পরিণতি হয়েছিল মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইটেরও।

মায়ামি-ফিলাডেলফিয়া ম্যাচের দুটি ঘটনার জন্য মেসি এবং তার ক্লাব সতীর্থ ইয়ান ফ্রেকে জরিমানা করা হয়েছে। তবে জরিমানার পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের কুইন সুলিভানের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার ঘাড়ের পেছনে মৃদু চড় দেন মেসি। ওই ম্যাচেই নিজের বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর প্রথম গোল করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি।

ফ্রের জরিমানার ঘটনাতেও জড়িয়ে ছিলেন সুলিভান। পেনাল্টি বক্সে বল নিয়ে ঢোকার সময় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলে ফ্রের সঙ্গে তার জটলা বাধে। এরপর ফ্রে সুলিভানের ঘাড় ধরে ফেলেন। জবাবে উঠে দাঁড়িয়ে ফ্রেকে ট্যাকল করেন সুলিভান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বলের বাইরে সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি লাল কার্ডও দেখানো হয়। মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও কাভান সুলিভানকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। তবে শুক্রবার কাভান সুলিভানের লাল কার্ড ও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে এমএলএস।

লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের স্বাধীন পর্যালোচনা প্যানেল সর্বসম্মতভাবে কাভান সুলিভানের শাস্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া মিনেসোটা ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার অ্যান্থনি মার্কানিচকেও জরিমানা করেছে এমএলএস। বুধবার আটলান্টা ইউনাইটেডের কাছে ২-১ গোলে হারের ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের ফাউলের প্রভাব বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগে তাকে জরিমানা করা হয়।