শিরোনাম

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, আশাবাদী প্রতিমন্ত্রী অমিত ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের দাবি নাকচ করলো মালয়েশিয়া দীর্ঘ ছয় বছর ধরে সাইবার বুলিংয়ের শিকার অভিনেত্রী মান্দানা দুই দেশের জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ভারত সফরে যাবেন তারেক রহমান : দীনেশ ত্রিবেদী বিপিসির লোকসান ২০ হাজার কোটি, ভর্তুকি না পেলে তেল আমদানি অনিশ্চিত
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে সাইবার বুলিংয়ের শিকার অভিনেত্রী মান্দানা

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে সাইবার বুলিং ও স্টকিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী মান্দানা করিমি। দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে যাওয়ার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তার। বরং তার পরিচিতজন এবং পেশাগত পরিসরের মানুষদের কাছেও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা হয়রানিমূলক বার্তা পাঠাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি একাধিক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন সাবেক ‘বিগ বস’ প্রতিযোগী মান্দানা। তার অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর থেকেই এই হয়রানির শুরু। ব্যবসায়ী গৌরব গুপ্তের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর গত ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে অনুসরণ ও অনলাইনে হয়রানি করা হচ্ছে।

মান্দানার দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তি শুধু তাকে নয়, তার পেশাগত পরিসরের মানুষদেরও লক্ষ্যবস্তু করছেন। সম্প্রতি ছুটিতে থাকাকালীনও তার এক প্রযোজক এবং কয়েকজন সহ-অভিনেতার কাছে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে মন্দানাকে নিয়ে বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি তার নামে টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী।

দেশ ছাড়ার পরও একই ধরনের ই-মেল তার পরিচিতদের কাছে পৌঁছাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মান্দানা। তার প্রশ্ন, কেন কেউ দীর্ঘদিন ধরে তার কাজ, উপার্জন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা জানতে কয়েক বছর আগে নিজ উদ্যোগে তদন্তের চেষ্টাও করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এ জন্য একজন ব্যক্তিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন মান্দানা।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করলেও পুরোনো এই অভিজ্ঞতা তাকে এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সাইবার হয়রানির ঘটনায় অবশেষে প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি।
 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

২০ বছর পর গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় জকোভিচের

অসুস্থ শরীর নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন, সব ধরনের গ্র্যান্ড স্ল্যামে টানা ৭৮ ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস থেকেই হয়তো। কিন্তু রেকর্ড ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী নোভাক জকোভিচের শেষ রক্ষা হলো না। রোববার ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিলেন তিনি। গত ২০ বছরের মধ্যে কোনো গ্র্যান্ড স্লামে এটাই তার সবচেয়ে দ্রুত বিদায়। কঠিন এক পাঁচ সেটের লড়াইয়ে তিনি হেরে যান আর্জেন্টাইন মারিয়ানো নাভোনের কাছে।

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ৪৮ নম্বরে থাকা আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় নাভোনে ম্যাচটি জেতেন ৭-৬ (৭/৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ ব্যবধানে। এই হারের ফলে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার জন্য জোকোভিচের সর্বশেষ চেষ্টাও থেমে গেল।

এই হারে থেমে গেল জোকোভিচের আরেকটি অসাধারণ কীর্তিও। গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ডে টানা ৭৮ ম্যাচ জেতার ধারা ভেঙে গেল তার। এই ধারা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পল গোল্ডস্টেইনের কাছে হেরেছিলেন জোকোভিচ। এরপর থেকে গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ডে আর কখনো হারেননি তিনি।

ম্যাচের মধ্যে কোর্টেই বমি করতে দেখা যায় জোকোভিচকে। ম্যাচের শেষ দিকে তার পায়ে টান ধরার সমস্যাও দেখা দেয়। তবে চতুর্থ সেটে একসময় মনে হচ্ছিল তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন। দুর্দান্ত এক ব্যাকহ্যান্ড শটে নাভোনের সার্ভিস ভেঙে তিনি ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান।

কিন্তু এরপরের পাঁচটি গেম জিতে নেন নাভোনে। দুটি ব্রেক পয়েন্ট সামলে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর উচ্ছ্বাসে হাত তোলেন তিনি। এরপর আবার জোকোভিচের সার্ভিস ভেঙে ম্যাচ পঞ্চম সেটে নিয়ে যান নাভোনে।

শেষ সেট শুরুর আগে চিকিৎসার জন্য বিরতি নেন জোকোভিচ। এই সময় তার মেরুদণ্ডে ম্যাসাজ দেওয়া হয় এবং আবারও ওষুধ দেওয়া হয়।

কিন্তু নির্ধারক সেটে শুরুতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান নাভোনে। এরপর আর ফেরার পথ ছিল না সার্বিয়ান তারকার জন্য। নিজের সার্ভিসে মাত্র একটি পয়েন্ট হারিয়ে দ্রুত ম্যাচ শেষ করেন নাভোনে।