শিরোনাম

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিসেম্বরের মধ্যে আসবে ইউরেনিয়ামের চালান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকেই বেকহ্যামের আয় ৫০০ কোটি টাকা পর্তুগালে 'বোরকা আইন' পাশ, জনসমক্ষে মুখ ঢাকায় নিষেধাজ্ঞা
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

সিদ্ধার্থ-কিয়ারার পরিবারে নতুন অতিথি? সালমানের মন্তব্যে নতুন জল্পনা

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদবানিকে নিয়ে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তাদের সংসারে নাকি শিগগির আসতে যাচ্ছে নতুন অতিথি। আর এই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ২০’-এর মঞ্চে সালমান খানের একটি মন্তব্যকে ঘিরে।

সম্প্রতি নিজের আসন্ন সিনেমা ‘দ্য ভান’র প্রচারে ‘বিগ বস ২০’-এর মঞ্চে হাজির হন সিদ্ধার্থ। সেখানে সঞ্চালক সালমান খানের সঙ্গে তার কথোপকথনে উঠে আসে বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা।

সিদ্ধার্থ জানান, বাবা হওয়ার অনুভূতি তার জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা। তাদের ১৫ মাস বয়সী কন্যাসন্তান এখন নতুন নতুন শব্দ শিখছে বলেও জানান তিনি।

এরপরই সিদ্ধার্থকে উদ্দেশ্য করে মজা করে সালমান বলেন, ‘আশা করি, তোমার পরিবারে আরও একজন নতুন সদস্য শিগগির আসবে।’

সালমানের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, সিদ্ধার্থ ও কিয়ারার পরিবারে দ্বিতীয় সন্তান আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কেউ কেউ আবার সালমানের কথাটিকে সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।

তবে সালমানের মন্তব্যটি নিছক রসিকতা ছিল, নাকি এর পেছনে কোনো তথ্য রয়েছে-তা এখনো স্পষ্ট নয়। সিদ্ধার্থ মালহোত্রা কিংবা কিয়ারা আদবানির পক্ষ থেকেও দ্বিতীয় সন্তান আসার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজস্থানে বিয়ে করেন সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা। ‘শেরশাহ’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় থেকেই তাদের প্রেমের সম্পর্কের শুরু। প্রথম দিকে নিজেদের সম্পর্ক গোপন রাখলেও পরে তা প্রকাশ্যে আসে।

বিয়ের পর এই তারকা দম্পতি প্রথমবার বাবা-মা হন। তাদের ১৫ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে এখনো প্রকাশ্যে আনেননি তারা। সন্তানকে লাইমলাইটের আড়ালে রাখতেই চান সিদ্ধার্থ-কিয়ারা।

এর মধ্যেই ‘বিগ বস ২০’-এর মঞ্চে সলমানের সঙ্গে সিদ্ধার্থের ওই কথোপকথন নেটদুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ‘পরিবারে আরও একজন নতুন সদস্য’ আসার মন্তব্যটিই নজর কেড়েছে সবার।

যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বিতীয় সন্তান নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধার্থ-কিয়ারার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত সালমানের মন্তব্যকে ঘিরেই এই জল্পনা সীমাবদ্ধ রয়েছে।

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্বকাপ থেকেই বেকহ্যামের আয় ৫০০ কোটি টাকা

বহুদিন থেকেই ফুটবল মাঠে নেই, কিন্তু বিশ্বকাপের আলো থেকে দূরে নন ডেভিড বেকহ্যাম। ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় সাফল্য পেয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই তারকা। বিশ্বকাপের বছরে তার ব্যবসা থেকে বিতরণ করা মুনাফার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মেরকাতোর’ বরাত দিয়ে গোল ডটকম জানিয়েছে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর তথ্য অনুযায়ী, বেকহামের ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এই বিপুল মুনাফা করেছে।

বিশ্বকাপের সময় বেকহ্যামের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত ছিল ম্যাকডোনাল্ডস, ভেরাইজন, পেপসি ও লে’জ-এর মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বকাপ ঘিরে তাদের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় বেকহ্যামের ব্র্যান্ডের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

তবে এখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপের বছরে বেকহ্যামের ব্যবসার মোট আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার ব্র্যান্ডের আয় ২০ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডে পৌঁছেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

ফুটবল ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ড, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বিশ্বজুড়ে যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন বেকহ্যাম, অবসরের পর সেটিকেই বড় বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে রূপ দিয়েছেন। মাঠের ক্যারিয়ার শেষ হলেও তার তারকা খ্যাতি এখনও বিশ্ববাজারে বড় সম্পদ হয়ে আছে।