শিরোনাম

আরাকান আর্মির হাতে ১১ বাংলাদেশি আটক  মার্কিন-ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপে ইরান ফুটবলার হতে চাওয়া নোরা ফাতেহি যেভাবে বলিউড তারকা হলেন প্রেসিডেন্সি ‘বিপজ্জনক পেশা’, জানলে নির্বাচন করতাম না: ট্রাম্প সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের সাথে বিএপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

স্কুলে ছুটির ঘন্টা, বাথরুমে আটকা পড়ে থাকলেন শিশু

বিকাল ৪ টা বিদ্যালয়ে ছুটির ঘন্টা পড়ে গেছে। বিদ্যালয়ে সকলে বের হয়ে গেলেও বাথরুমে আটকা পড়েন তৃতীয় শ্রেণীর সাদিয়া নামের এক  শিক্ষার্থী। ঘটনাটি মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।


আটকে থাকার কয়েক ঘন্টা পর পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক এঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া  স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রাণসংকটে পড়ে। সময় গড়াতে থাকলে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই হৃদয়বিদারক চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি সামনে আসে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। খোঁজ নিতে এসে তিনিও স্থানীয়দের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায়, স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল প্রায় চারটার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়। 


ঘটনাটি রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও,  আর কোনো কল রিসিভ করা হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।'

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

প্রথমবারের মতো বাপ্পা-রুনার দ্বৈত কণ্ঠে আসছে ‘বাংলা গজল’

দেশের সঙ্গীতাঙ্গনের দুই তারকা রুনা লায়লা ও বাপ্পা মজুমদার এবার নতুন চমক নিয়ে আসছেন। প্রথমবারের মতো এই দুই শিল্পীকে একসঙ্গে শোনা যাবে ভিন্ন আঙ্গিকের একটি গানে, যা মূলত একটি ‘বাংলা গজল’।

সৈয়দ গালিব হাসানের কথায় নির্মিত এই বিশেষ গানের ঘোষণা সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দিয়েছেন রুনা লায়লা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি প্রকাশ করেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় রুনা লায়লা জানান, ‘অনায়াসে’ শিরোনামের গানটি শুরুতে এককভাবে তার গাওয়ার কথা থাকলেও বাপ্পা মজুমদারের সুর ও কম্পোজিশন শুনে তিনি নিজেই একে দ্বৈতকণ্ঠে গাওয়ার প্রস্তাব দেন।

বাপ্পার প্রতিভার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাপ্পা অত্যন্ত মেধাবী একজন সুরকার, গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালক। ওর সঙ্গে গাইলে জিনিসটা ভালো হবে মনে করেই আমরা একসঙ্গে গানটি রেকর্ড করেছি।   

জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে বাপ্পা মজুমদারের বনানীর স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়। রুনা লায়লার সঙ্গে একসঙ্গে গাইতে পারার প্রতিক্রিয়ায় বাপ্পা মজুমদার বলেন, এটা সত্যিই আমার জন্য অনেক স্পেশাল। স্বপ্ন সত্যি হল।

বাংলা ভাষায় গজলের এমন নিরীক্ষা আগে কখনও হয়নি উল্লেখ করে রুনা লায়লা জানান, দুই প্রজন্মের দুই জনপ্রিয় শিল্পীর এই বিশেষ কোলাবরেশনটি আগামী ১৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

নতুন ধারার এই গানটির সাফল্য কামনায় ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

ক্লাব বেঁচে থাকলে খেলোয়াড়রা বেঁচে থাকবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দেশের ক্লাবগুলোকে রাজনীতিকরণ ও দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ ধানমন্ডিতে আবাহনী লিমিটেড পরিদর্শনে গিয়ে বলেছেন এমনটাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ক্লাবটিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে ক্রীড়া কার্যক্রম পুরোদমে চালুর বিষয়ে ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি।

আবাহনী ও মোহামেডানকে দেশের ফুটবলের মেরুদণ্ড উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে আবাহনী ক্লাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য ক্লাবগুলো রাজনীতির বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। মোহামেডান–আবাহনী এবং বাংলাদেশের ফুটবলের যে ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্য যাতে কখনোই কোনো কারণে রাজনৈতিক কারণে ভবিষ্যতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়গুলো আমরা আজকে ইতিমধ্যে আমি আলোচনা করেছি।’

অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রীর, ‘বিগত সময় কী হয়েছে সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করব না, তবে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। যাতে সামনের দিকে আর কখনো কোনো ভুল না হয় এবং আবাহনী ক্লাব স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।’

খেলোয়াড়দের কল্যাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা চাই যে ক্লাব যদি বেঁচে থাকে তাহলেই কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রা বেঁচে থাকবে। কারণ ক্লাব যদি ঠিক না থাকে তাহলে কিন্তু খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তৃণমূলের খেলাধুলা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২ মে থেকে ৬৪ জেলায় কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস; কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া ক্লাবগুলোর আর্থিক অস্বচ্ছলতা দূর করতে করপোরেট হাউসগুলোর সহযোগিতা এবং নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, ‘ভবিষ্যতে কোনো ক্লাব যাতে আর কোনো রাজনীতিকরণ করা না হয়, ক্লাবকে যাতে আবার দলীয়ভাবে কোনো ব্যবহার করা না হয়, এ বিষয়ে আমরা সবাই সতর্ক থাকব। এবং আমার সাংবাদিক ভাইদেরও আমি সার্বিক সহযোগিতা চাই ইনশাল্লাহ।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্লাব পরিদর্শনকালে আবাহনী ও মোহামেডান ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল উপস্থিত ছিলেন। ক্লাবটির বর্তমান ফুটবলাররা ফুল দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করে নেন এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে সম্মানসূচক জার্সি উপহার দেওয়া হয়।