শিরোনাম

মেহেরপুরে প্রায় ৭০ বিঘা গম আগুনে পুড়ে গেছে ত্রিশালে পিতার হাতে শিশু সন্তান খুন। পিতা গ্রেফতার নড়াইল জেলা হাসপাতালে দুই এমপির আকস্মিক পরিদর্শন, সমস্যা সমাধানে আশ্বাস মোঃ রুবেল হোসেনের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করল 'ন্যায়ের পথে সৈনিক আমরা রক্তবন্ধু' সংগঠন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছাড়লেন এনসিপি নেতা
ছবি: সংগৃহীত।

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’


‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’


‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’
‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’


‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’


‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

হৃতিকের পথেই হাঁটছেন ছেলে হৃদান

কাপুর কিংবা বচ্চন বলিউডের প্রভাবশালী এই পরিবারগুলোর মতো রোশান পরিবারের শেকড়ও অনেক গভীরে। সেই সংগীত পরিচালক রোশনলাল নাগরথ থেকে শুরু করে রাকেশ রোশান ও হৃতিক রোশান পর্যন্ত তিন প্রজন্ম দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এই অঙ্গন। এবার সেই পারিবারিক ধারা বজায় রাখতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে পা রাখছেন হৃতিক রোশনের ছোট ছেলে হৃদান রোশান। 

তবে বাবার মতো অভিনয়ের জন্য নয় বরং পর্দার পেছনের কারিগর হওয়ার লক্ষ্যেই তার এই যাত্রা। চলচ্চিত্র পরিচালনা বা ‘ফিল্মমেকিং’ নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিচ্ছেন হৃদান। লস অ্যাঞ্জেলেসের বিশ্বখ্যাত ‘ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া’তে ফিল্ম অ্যান্ড টিভি প্রোডাকশন নিয়ে পড়াশোনা করবেন তিনি।

হৃদানের স্কুল ‘আমেরিকান স্কুল অফ বোম্বে’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খুশির খবরটি ভাগ করে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আমাদের কাছে এটা একেবারেই আশ্চর্যের নয় যে হৃদানকে আমরা ইউএসসি-তে ফিল্ম নিয়ে পড়তে দেখব। অভিনন্দন হৃদান, আমরা তোমার জন্য গর্বিত।’

স্কুল কর্তৃপক্ষের সেই পোস্টে হৃতিকের পরিবারের পক্ষ থেকেও হৃদানকে নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানানো হয়েছে। ১৭ বছর বয়সী এই তরুণের হাত ধরে রোশন পরিবারের পারিবারিক ঐতিহ্য এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, হৃতিক রোশান এবং তার প্রাক্তন স্ত্রী সুজান খানের ছোট ছেলে হৃদান। তাদের বড় ছেলের নাম হৃহান রোশান। হৃতিক ও সুজানের ১৪ বছরের দাম্পত্যের ইতি ঘটলেও সন্তানদের অভিভাবক হিসেবে তারা সবসময়ই একজোট। এমনকি করোনাকালেও তারা দুই ছেলের কথা ভেবে একই ছাদের নিচে সময় কাটিয়েছেন। 


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

টালমাটাল ইতালির ফুটবল, ফেডারেশনে ডিম ছুড়াসহ আরও যা ঘটল

টালমাটাল এক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইতালির ফুটবল। টানা তিন বিশ্বকাপে উঠতে পারেনি দলটি। অথচ তারা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এমন করুণ পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছেন না ফুটবল-বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে দেশটির ফুটবলপাগল সমর্থকেরা।

বসনিয়া এন্ড হার্জেগোভিনাকে হারাতে পারলেই ১২ বছর পর বিশ্বকাপে খেলত ইতালি। কিন্তু পরশু রাতে ইউরোপিয়ান প্লে-অফ ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে সবশেষ বিশ্বকাপে ওঠার পর ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ আর খেলতে না পারায় দর্শকদের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে ফেডারেশনের ওপর। রোমে ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ডিম ছুড়েছেন। দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এমন বেহাল অবস্থার জন্য ফেডারেশনের কর্মকর্তারা তাই পড়েছেন বিপাকে।

টানা তিন বিশ্বকাপে খেলতে না পারার ব্যর্থতায় ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে এফআইজিসির শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে এই কার্যক্রম। বিশ্বকাপ ট্র্যাজেডির হ্যাটট্রিকের পর এক বিবৃতিতে গতকাল তিনি বলেন, ‘ইতালির ফুটবলকে একেবারে গোড়া থেকে গড়তে হবে। ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে সংস্কার শুরু হতে হবে।’

২০১৮ সালে কার্লো তাভেচ্চিও বিদায় নেওয়ার পর এফআইজিসি প্রধানের চেয়ারে বসেছেন গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। হ্যাটট্রিক ব্যর্থতার পর অনেকে তার পদত্যাগের দাবি করেছেন। তবে তিনি তা করছেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। আজ বিকেলে পেশাদার লিগের তিন বিভাগ, খেলোয়াড় ও রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন এফআইজিসি প্রধান। আগামী সপ্তাহে বোর্ডের সভায় তার ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

২০১৭ সালে সুইডেনের কাছে প্লে–অফে হেরে ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি ইতালির। উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে হারে কাতার বিশ্বকাপেও (২০২২ সাল) খেলা হয়নি আজ্জুরিদের। এবার ইতালি হেরে বসল বসনিয়ার কাছে। যেখানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইতালি অবস্থান করছে ১২ নম্বরে। আর বসনিয়া র্যাঙ্কিংয়ে ৬৫তম দল। আজ্জুরিদের তাই অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

যে জেনারো গাত্তুসো খেলোয়াড় হিসেবে ২০০৬ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, সেই গাত্তুসো এবার ইতালির কোচ। পরশু রাতে বসনিয়ার কাছে হারের পর শিষ্যদের কান্না স্পর্শ করে তাকেও। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘খুব কষ্ট হচ্ছে। সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার নিজের কষ্টের চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে এই দলটাকে দেখে যারা এই কয়েক মাসে সত্যিই সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। এটা আরেকটা বড় ধাক্কা। যদিও এবার আমরা এর যোগ্য ছিলাম না।’

২০২৫ সালের জুনে লুসিয়ানো স্পালেত্তিকে বরখাস্ত করার পর ইতালির কোচের পদে বসেন গাত্তুসো। বর্তমানে তার (গাত্তুসো) চুক্তি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। যদি ইতালি বিশ্বকাপে উঠত, তাহলে তার মেয়াদ বাড়ানো হতো ২০২৮ সাল পর্যন্ত। নিজের ভবিষ্যতের চেয়েও গাত্তুসোর খারাপ লাগছে শিষ্যদের কথা ভেবে। যারা এত কাছাকাছি গিয়েও উঠতে না পারার ব্যর্থতায় অঝোরে কাঁদছেন। ইতালির কোচ বলেন, ‘এখানে আমাদের ইতালির কথা বলা উচিত। জাতীয় দলের জার্সির কথা বলা উচিত। আমরা আরও বেশি পাওয়ার যোগ্য ছিলাম। আর সে কারণেই আমার ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ নয়।’