শিরোনাম

ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর এনটিআরসিএর মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ, বহাল আগের নিয়ম ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ ব্যক্তিগত চ্যাট গোপন রাখতে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার চাকরি দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ থাকছে যেসব সুবিধা
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

আমি কেন ফিল্মকে পাপ বলব, ক্ষোভ প্রকাশ পপির

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়, তিনি নাকি বলেছেন- যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।

তবে এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এ অভিনেত্রী।

তার মন্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পপি বলেন, তিনি কখনোই চলচ্চিত্রকে পাপের জায়গা হিসেবে দেখেননি। বরং ফিল্মই তার জীবনের সবচেয়ে সম্মানজনক ও পবিত্র জায়গা।

এ অভিনেত্রী বলেন, ফিল্ম আমার পেশা, আমার দ্বিতীয় পরিবার। এ ইন্ডাস্ট্রি থেকেই উপার্জন করেছি, পরিবার চালিয়েছি। আমি কেন ফিল্মকে পাপ বলব?

তিনি জানান, একটি ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে পরিবারের প্রতি ক্ষোভ থেকে বলা কিছু কথাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষায়-আমি বলেছিলাম জীবনে কিছু অমানুষকে লালন করেছি, নিজের জন্য না ভেবে পরিবারের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি, সেই অর্থে কথাটি বলেছিলাম। কিন্তু সেটিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ছড়িয়ে আমাকে অপমান করা হয়েছে।

পপি মনে করেন, একজন শিল্পীর দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও ত্যাগকে সম্মান করা সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রায় তিন দশক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন এবং ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি মানুষের অবদান তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

অভিনেত্রীর দাবি-ফিল্ম থেকে চলে গেলেই কি সম্মান চলে যাবে? আমি যতদিন বেঁচে থাকব, চলচ্চিত্রের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অটুট থাকবে।

দীর্ঘদিন অভিনয়ের বাইরে থাকা এই অভিনেত্রী জানান, বর্তমানে তিনি স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে সুখে আছেন। নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন করছেন এবং শান্তিপূর্ণ পারিবারিক জীবনেই সময় দিচ্ছেন।

অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা কম হলেও ভবিষ্যতে প্রযোজনায় কাজ করার আগ্রহ রয়েছে বলে জানান পপি। একইসঙ্গে ভক্ত ও সহকর্মীদের প্রতি তার অনুরোধ, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো বিভ্রান্তিকর বক্তব্য বিশ্বাস বা প্রচার না করতে। সেইসঙ্গে পপি এও বলেন-মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের মানুষদের নিয়ে আমার মুখ থেকে একটি বাজে শব্দও বের হবে না।

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

২০ বছর পর গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় জকোভিচের

অসুস্থ শরীর নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন, সব ধরনের গ্র্যান্ড স্ল্যামে টানা ৭৮ ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস থেকেই হয়তো। কিন্তু রেকর্ড ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী নোভাক জকোভিচের শেষ রক্ষা হলো না। রোববার ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিলেন তিনি। গত ২০ বছরের মধ্যে কোনো গ্র্যান্ড স্লামে এটাই তার সবচেয়ে দ্রুত বিদায়। কঠিন এক পাঁচ সেটের লড়াইয়ে তিনি হেরে যান আর্জেন্টাইন মারিয়ানো নাভোনের কাছে।

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ৪৮ নম্বরে থাকা আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় নাভোনে ম্যাচটি জেতেন ৭-৬ (৭/৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ ব্যবধানে। এই হারের ফলে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার জন্য জোকোভিচের সর্বশেষ চেষ্টাও থেমে গেল।

এই হারে থেমে গেল জোকোভিচের আরেকটি অসাধারণ কীর্তিও। গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ডে টানা ৭৮ ম্যাচ জেতার ধারা ভেঙে গেল তার। এই ধারা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পল গোল্ডস্টেইনের কাছে হেরেছিলেন জোকোভিচ। এরপর থেকে গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ডে আর কখনো হারেননি তিনি।

ম্যাচের মধ্যে কোর্টেই বমি করতে দেখা যায় জোকোভিচকে। ম্যাচের শেষ দিকে তার পায়ে টান ধরার সমস্যাও দেখা দেয়। তবে চতুর্থ সেটে একসময় মনে হচ্ছিল তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন। দুর্দান্ত এক ব্যাকহ্যান্ড শটে নাভোনের সার্ভিস ভেঙে তিনি ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান।

কিন্তু এরপরের পাঁচটি গেম জিতে নেন নাভোনে। দুটি ব্রেক পয়েন্ট সামলে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর উচ্ছ্বাসে হাত তোলেন তিনি। এরপর আবার জোকোভিচের সার্ভিস ভেঙে ম্যাচ পঞ্চম সেটে নিয়ে যান নাভোনে।

শেষ সেট শুরুর আগে চিকিৎসার জন্য বিরতি নেন জোকোভিচ। এই সময় তার মেরুদণ্ডে ম্যাসাজ দেওয়া হয় এবং আবারও ওষুধ দেওয়া হয়।

কিন্তু নির্ধারক সেটে শুরুতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান নাভোনে। এরপর আর ফেরার পথ ছিল না সার্বিয়ান তারকার জন্য। নিজের সার্ভিসে মাত্র একটি পয়েন্ট হারিয়ে দ্রুত ম্যাচ শেষ করেন নাভোনে।