শিরোনাম

আদালত চত্বরে সাংবাদিককে তুই-তুকারি, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল পরীমনির এলপি গ্যাসের দাম শুধু কাগজে, বাড়তি দামেই কিনছেন ক্রেতা চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেলেন ড. খন্দকার মোশাররফ মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত

আদালত চত্বরে সাংবাদিককে তুই-তুকারি, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল পরীমনির

এবার আদালত প্রাঙ্গণে ভিড়ের মাঝেই ঘটে গেল এক তুলকালাম কাণ্ড। মারধর ও ভাঙচুরের একটি মামলায় আদালতে জামিন নিতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেললেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনি। গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালত চত্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এক সাংবাদিককে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন তিনি।  শুধু তাই নয়, ওই সাংবাদিককে ‘তুই-তুকারি’ সম্বোধন করে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন বোট ক্লাবকাণ্ডে আলোচিত এই অভিনেত্রী

বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) দুপুরের এ ঘটনায় মুহূর্তেই সরগরম হয়ে ওঠে আদালত চত্বর।

আদালত প্রাঙ্গণে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মেজাজ চড়া অবস্থায় পরীমনি অন্য সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলছেন, তোমাদের সাংবাদিকদের মধ্যে একটা ছেলে আমার গায়ে হাত দিয়েছে। তোমাদের ক্যামেরায় ফুটেজ আছে না? তোমরা ফুটেজ দেখে ওই ছেলেটাকে খুঁজে বের করবা!

শুধু তাই নয়, ক্ষোভের বশে ওই সাংবাদিককে গালিও দিতে শোনা যায় তাকে।

তবে এর মধ্যেই নায়িকার জন্য স্বস্তির খবর, এদিন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন পরীমনি। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান মাত্র ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এর আগে বুধবার (০৪ নভেম্বর) এই মামলায় পরীমনির আদালতে হাজির না হওয়ার কারণে তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। তবে এদিন স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সেই পরোয়ানা কাটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন পরীমনি।

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে নেটদুনিয়ায় এখন চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ক্যামেরার ফ্রেমে পরীমনির এই রূপ ভক্তদের মাঝেও বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ০৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম। 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের উইকেটেও একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

মিরপুরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। সিলেটের উইকেট, আবহাওয়া ও কন্ডিশন বিবেচনায় এবার একাদশে পরিবর্তনের প্রত্যাশাও ছিল। বিশেষ করে পেসারদের জন্য সহায়ক পরিবেশে তিন পেসার নিয়ে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বাস্তবে হলো উলটো।

মিরপুরের মতো সিলেটেও তিন স্পিনার ও দুই পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনেই প্রশ্ন উঠেছে, একাদশ নির্বাচনে আবারও কি ভুল করল স্বাগতিকরা?

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে শুরুর দিকে পেসারদের জন্য কিছুটা বাড়তি সহায়তার প্রত্যাশা ছিল। নতুন বলে আর্দ্রতা ও বাতাসের প্রভাব কাজে লাগানোর সুযোগও ছিল। টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং নেওয়ার পর বাংলাদেশের পেসাররা সেই সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগান।

তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে মাত্র ২৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। ব্র্যান্ডন কিং, কাভেম হজ ও জশুয়া ডা সিলভাকে ফিরিয়ে শুরুতেই ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলে দেন দুই পেসার। কিন্তু এরপরই যেন বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।

কেভিন উইকহাম ও আমির জাঙ্গু ক্রিজে থিতু হওয়ার পর বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পালটা চাপ তৈরি করেন। চতুর্থ উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন তারা। লাঞ্চের পর উইকেট থেকে পেসারদের সহায়তা কমে এলেও একজন বাড়তি গতিময় বোলার থাকলে আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করার সুযোগ পেত বাংলাদেশ।

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব রাখতে পারেননি। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের বিপক্ষে স্পিন আক্রমণ খুব একটা কার্যকর হয়নি। অথচ সিলেটের উইকেট নিয়ে শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ছিল। বিসিবির প্রধান কিউরেটর টনি হেমিংও ম্যাচের আগের দিন উইকেট পর্যবেক্ষণ করেছেন। টিম ম্যানেজমেন্ট চেয়েছিল স্পিনসহায়ক উইকেট। কিন্তু সিলেটের আবহাওয়া সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গরম থাকলেও আকাশ মেঘলা থাকায় রোদে উইকেট শুকিয়ে ফাটল ধরার সুযোগ কম ছিল।

ম্যাচের আগের দিনও উইকেটে প্রায় চার মিলিমিটার ঘাস ছিল। এমন কন্ডিশনে পেসারদের গুরুত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও একাদশে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান থাকলেও প্রথম দিন তাদের কেউই উইকেট পাননি। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রথম চারটি উইকেটই গেছে দুই পেসার তাসকিন ও হাসান মাহমুদের ঝুলিতে। বিশেষ করে লাঞ্চের পর উইকেটের জন্য হাহাকার করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

কেভিন উইকহাম ১৪৫ বলে ৬১ রান করে আউট হওয়ার আগে আমির জাঙ্গুর সঙ্গে গড়েন ১৩১ রানের জুটি। জাঙ্গু সেঞ্চুরি করে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রেখেছেন। একজন বাড়তি পেসার থাকলেই বাংলাদেশ বেশি উইকেট পেত, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে সিলেটের উইকেট ও আবহাওয়ার বাস্তবতা বিবেচনায় তিন পেসার খেলানোর সুযোগ ছিল।

মিরপুরের অভিজ্ঞতার পরও একই ধরনের একাদশ বেছে নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে। উইকেটের চরিত্র বুঝতে কি আবারও ভুল করল বাংলাদেশ?