শিরোনাম

যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়ে ইরানের নতুন বক্তব্য পবিত্র মদিনা অঞ্চলে ১,৭৭৪টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার তিন লাল কার্ডে বিতর্কের মুখে উদ্বোধনী ম্যাচ, কী বলছে ফুটবল আইন? প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাই ট্রি’ অ্যাপ উপহার দিতে চায় ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফাউন্ডেশন’ বিকালে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করবেন অর্থমন্ত্রী
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন কোয়েল মল্লিক

পশ্চিমবঙ্গের রুপালি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য কোয়েল মল্লিক। কদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, শিগগিরই রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেবেন তিনি। অবশেষে সেই গুঞ্জনকে সত্যি করে এই অভিনেত্রী রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। 

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে ইমেইল মারফত পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন কোয়েল। 

এদিকে কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে দলটির সমর্থিত প্রার্থীরাও আছেন বিপাকে। এর আগে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকও পদত্যাগ করেছেন। আর এবার কোয়েল মল্লিকের পর এখন রাজ্যসভায় দলটির ১৩ জন সদস্য থেকে বাকি থাকল ৯ জন। 

শোনা যাচ্ছে, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আরও কয়েকজন নাকি পদত্যাগ করবেন। 

যদিও এতদিন রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন একসময়ের দর্শকপ্রিয় এই অভিনেত্রী। ফলে ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় তার নাম দেখে অনেকে বেশ অবাকই হয়েছিল। পরে এপ্রিলে দিল্লি গিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন অভিনেত্রী। 

সে সময় কোয়েল বলেছিলেন, ‘অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা—এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না।’ 

কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবার রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এই অভিনেত্রী। 


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

তিন লাল কার্ডে বিতর্কের মুখে উদ্বোধনী ম্যাচ, কী বলছে ফুটবল আইন?

ক্লাব ফুটবল থেকে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ—ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপেও তাই ভিএআরের সিদ্ধান্ত কতটা নির্ভুল হবে, তা নিয়ে ছিল নানা প্রশ্ন। উদ্বোধনী ম্যাচেই তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে সেই আলোচনা আরও উসকে দিয়েছেন রেফারি উইল্টন পেরেইরা সাম্পাইও।

মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার র উদ্বোধনী ম্যাচে দেওয়া তিনটি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক এলিট রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস। প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপে প্রায় ১২ বছর দায়িত্ব পালন করা ডেভিস ইএসপিএনের এক অনুষ্ঠানে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

প্রথম লাল কার্ড: সিথোলের বিদায় নিয়ে বিতর্ক নেই

ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার স্ফেফেলো সিথোল লাল কার্ড দেখেন। তখন ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল তার দল।

ঘটনার সূত্রপাত মেক্সিকোর মিডফিল্ডার ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে বক্সের ভেতরে ফাউল করার মাধ্যমে। গুতিয়েরেজ গোলমুখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার সামনে ছিল পরিষ্কার গোলের সুযোগ। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, এটি ছিল ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত। তার ভাষায়, গুতিয়েরেজের সামনে স্পষ্ট গোলের সুযোগ ছিল এবং সিথোলের ফাউল সেই সুযোগ নষ্ট করেছে। ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো সম্পূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্ত।

দ্বিতীয় লাল কার্ড: জোয়ানের বিদায় নিয়ে প্রশ্ন

ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানকে লাল কার্ড দেখানো হয়।

মেক্সিকোর রবার্তো আলভারাডোকে পাশ কাটানোর সময় জোয়ানের হাত প্রতিপক্ষের মুখে লাগে। প্রথমে রেফারি কোনো লাল কার্ড দেননি। তবে ভিএআরের পরামর্শে রিপ্লে দেখার পর সিদ্ধান্ত বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।  

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন ডেভিস। তার মতে, ঘটনাটি ‘হিংসাত্মক আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, তা বিতর্কের বিষয়। মুখে আঘাত লাগার ঘটনায় অনেক সময় লাল কার্ড দেওয়া হলেও এখানে সিদ্ধান্তটি কিছুটা কঠোর মনে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রিপ্লে দেখার সময় রেফারির মধ্যেও দ্বিধা ছিল বলে মনে হয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত ভিএআরের তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তৃতীয় লাল কার্ড: মন্টেসের শাস্তি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার চেজার মন্টেস লাল কার্ড দেখেন।

দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকার চার খেলোয়াড় তিন ডিফেন্ডারের বিপক্ষে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কুলিশো মুদাউকে বক্সের বাইরে ফাউল করেন মন্টেস। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান এবং ভিএআরও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

তবে এই সিদ্ধান্তেই সবচেয়ে বেশি আপত্তি জানিয়েছেন ডেভিস। তার মতে, ঘটনাটি নিশ্চিতভাবে ‘গোলের সুস্পষ্ট সুযোগ’ নষ্ট করার পর্যায়ে পড়ে না। কারণ মুদাউয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্ভবত শট নেওয়া নয়, বরং ক্রস দেওয়ার ছিল। ফলে এটি নিশ্চিত গোলের সুযোগের বদলে সম্ভাব্য আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারত।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এমন সিদ্ধান্ত অনেকটাই রেফারির ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। আর ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ না হওয়ায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ করার সুযোগও সীমিত ছিল।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই তিনটি লাল কার্ড এবং ভিএআর নিয়ে আলোচনা প্রমাণ করে, প্রযুক্তির সহায়তা থাকা সত্ত্বেও রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এখনও ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে।