শিরোনাম

ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধ মাটিকাটার ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিকের উপর হামলা রাজশাহীতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্ধকোটি টাকার গরমিল, হদিস নেই ১১১ টন চালের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার গলা কাটলেন কর্মচারী,ছুরি চালালেন নিজের গলাতেও এবার তুরস্কে হামলা করল ইরান ইরান যুদ্ধে ইসরায়েলের সাপ্তাহিক ক্ষতি ২.৯ বিলিয়ন ডলার
ছবি: সংগৃহীত।

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’


‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’


‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’
‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’


‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’


‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

ইকরা আত্মহত্যা মামলায় আসামি নন তিথি, জানাল পুলিশ

নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন আলোচিত-সমালোচিত অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। সোমবার ((২ ফেব্রুয়ারি) নাটকের শুটিং টিমের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন তিনি।

সম্প্রতি জাহের আলভীর স্ত্রীর মৃত্যুর পর খবর ছড়ায় তিথির বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা করেছে ইকরার পরিবার। কিন্তু রাজধানীর পল্লবী থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।

খবরটি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ওসি একেএম আলমগীর হোসেন। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘নাটকের শুটিং টিম ঢাকায় এসেছে। আলভীর পরকীয়া প্রেমিকা (ইফফাত আরা তিথি) ঢাকায় এসেছেন কিন্তু তিনি আসামি নন। এই মামলার আসামি আলভী এবং তার মা। পুলিশ বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগের খোঁজখবর নিয়েছে তারা দেশে আসেনি।’

এদিকে দেশে ফিরে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিথি বলেন, “অনেকেই অভিযোগ করছেন ‘আলভী তার স্ত্রীকে শেষ দেখা দেখতে আসেননি, তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে নেপালে ঘুমিয়ে আছে’— এটা ভুল কথা। আমি পুরো টিমের সঙ্গে গতকাল (২ ফেব্রুয়ারি) দেশে এসেছি। যেদিন ইকরা আত্মহত্যা করে ওই দিন একটা টিকিটের জন্য অনেক জায়গায় ফোন দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন কোথাও টিকিট পাওয়া যায়নি। পরের দিনের টিকিট ব্যবস্থা করে টিমের সবাই দেশে ফিরেছি।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর পৌনে ১২টায় গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা ইকরাকে উদ্ধার করেন। পরদিন ১ মার্চ তার মামা বাদী হয়ে জাহের আলভী ও তার মায়ের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি আলভী।

২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

ব্যক্তিগত বিমানে যুদ্ধকবলিত সৌদি ছেড়েছেন রোনালদো!

সৌদি আরবে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কবলে পড়ে ক্ষতবিক্ষত দেশটি। সম্প্রতি রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এমন যুদ্ধাবস্থায় শিরোনামে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

২০২৩ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকে রিয়াদে থাকছেন রোনালদো। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর হওয়ার দিনেও তিনি ক্লাবটির হয়ে প্রতিপক্ষের মাঠে ফুটবল খেলেছেন। কিন্তু পরিস্থিতি চরমমাত্রা ধারণ করায় তাকে নিয়ে ভক্তদের অনিশ্চয়তা ছিল। এরই মধ্যে তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর— তার বিলাসবহুল বিমান সৌদি ছেড়েছে। তবে ভেতরে সিআরসেভেন ছিলেন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

রোনালদোর ৬ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডের বিমানটি ছাড়ার ঘটনা ঘটে রিয়াদে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার পর। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান সরাসরি রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করেছে। এরপরই সৌদি ফুটবলের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর রোনালদোকে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

দ্য সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোনালদোর ব্যক্তিগত বিমানের মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। বিমানটিকে একটি ‘উড়ন্ত প্রাসাদ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক ব্যক্তিগত বিমানগুলোর একটি, যেটি ১৯ জন যাত্রী বহন করতে পারে। বিরতিহীনভাবে উড়তে পারে ৭,০০০ মাইলেরও বেশি পথ।