শিরোনাম

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার জার্সি পরে নামাজ পড়া কি বৈধ? বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের গর্ব, আলোচনায় সঞ্জয় দেব সিঙ্গাপুর-কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী আইসিইউ নিয়ে সুখবর পাচ্ছে ১০ জেলার মানুষ, আজ থেকে চালু
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের গর্ব, আলোচনায় সঞ্জয় দেব

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ও বেঙ্গল টাইগারের প্রতীক তুলে ধরে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গায়ক, সংগীত পরিচালক ও ডিজে সঞ্জয় দেব। কানাডার বিএমও স্টেডিয়াম-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফিফার নতুন গান ‘সির সির’ পরিবেশন করেন সঞ্জয় দেব, নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি হিপহপ তারকা ভেজেড্রিম। তবে গানের পাশাপাশি দর্শকদের নজর কাড়ে সঞ্জয়ের বিশেষ জ্যাকেট, যেখানে ছিল বাংলাদেশের পতাকা, জাতীয় ফুল শাপলা এবং সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের নকশা।

পারফরম্যান্সের সময় বারবার সঞ্জয় তার জ্যাকেটের হাতার দিকে ইঙ্গিত করে এই বিশেষ নকশাগুলো তুলে ধরেন। যেন বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলতে চাইছিলেন, ‘এটাই আমার বাংলাদেশ।’ কোটি বাংলাদেশির কাছে মুহূর্তটি ছিল আবেগের ও গর্বের।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া সঞ্জয় দেব প্রায় দুই দশক আগে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে পারফর্ম করার পাশাপাশি পোশাকের মাধ্যমে নিজের শিকড় ও বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরে তিনি কোটি বাংলাদেশির প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

অনুষ্ঠানের আগে প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বকাপের এই মুহূর্তের জন্য খুবই বিশেষ পরিকল্পনা করেছি। কারণ, এমন মুহূর্ত জীবনে বারবার আসে না।’ পরিবেশনার পর সেই পরিকল্পনার বাস্তব রূপ দেখেছে বিশ্ব। বাংলাদেশের প্রতীকসমৃদ্ধ পোশাকের মাধ্যমে তিনি নিজের শিকড়, সংস্কৃতি ও পরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফরম্যান্সের একটি ভিডিও ক্লিপ সঞ্জয় তার ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। মাত্র ৬৫ সেকেন্ডের সেই ভিডিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখো মানুষের নজর কাড়ে। ভিডিওটি ১০ ঘণ্টায় ৬০ লাখের বেশি ভিউ হয়েছে এবং রিঅ্যাকশন এসেছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ। পোস্টটি শেয়ার হয়েছে প্রায় ১০ হাজার এবং মন্তব্য এসেছে ৪ হাজারের বেশি। বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ তারকারাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ১১ জুন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ১২ জুন কানাডা অঞ্চলের আয়োজনে সঞ্জয় দেবকে দেখা যায় এই বিশেষ কস্টিউমে। পোশাকটির নকশা করেছেন ছায়া কুমার, এমব্রয়ডারির কাজ করেছেন জন কিম এবং স্টাইলিং করেছেন জেসমিন প্যাটেল।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা অস্ট্রেলিয়ার

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিলো অস্ট্রেলিয়া। কানাডার বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। 

শুরু থেকেই জমে ওঠে এই ম্যাচ। একদিক দিয়ে যেমন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মেটক্যাফে, ওকন ইংস্টলার, ও'নেইল এবং টোরেরা আক্রমণ তুলে আনছিলেন। ঠিক সেইরকমই ডিফেন্সে সজাগ ছিলেন বারগেস ও কিরকাটিরা।  আর ঠিক উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে, তুরস্কের পাল্টা প্রতি-আক্রমণে উঠে আসতে থাকেন ইলমাজ, কোককু, গালেররা। ডিফেন্সে বাড়তি দায়িত্ব পালন করেন বার্ডাকি। 

তবে মাঝমাঠ থেকে ক্রমাগত অ্যাটাক তুলে আনতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি উইংকেও ব্যবহার করার চেষ্টা করে তারা। আর সেই সুবাদেই ম্যাচের প্রথম গোলটি পেয়ে যায় তারা। খেলার ২৭ মিনিটে। নেস্টোরি ইরানকুন্ডার গোলে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তবে গোল খাওয়ার পর, কাউন্টার অ্যাটাক জারি রাখে তুরস্কও। তবে আর কোনও গোল হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ফলাফল নিয়েই। 

দ্বিতীয়ার্ধেও দারুণ ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। বেশ লড়াকু ম্যাচ বলা যেতে পারে। ৫৭ মিনিটের মাথায়, টপ বক্সের একটু বাইরে থেকে দুরন্ত ফ্রি-কিক নেন তুরস্কের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আর্ডা গুলার। তবে সেই জোরালো শট কার্যত, শরীর ছুঁড়ে সেভ করেন অজি গোলকিপার বিচ।

শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা ডিফেন্সিভ মোডে চলে যায়। আর সেই সুযোগেই চাপ বাড়াতে শুরু করে তুরস্ক। একটুর জন্য একটি শট বারপোস্টের উপর দিয়ে উড়ে যায় এবং সুযোগ নষ্ট হয়। তবে হাল ছাড়েনি অজিরা। উপস্থিত বুদ্ধি এবং উপযুক্ত কৌশলকে কাজে লাগাতে যেন সিদ্ধহস্ত তারা। তারই প্রমাণ পাওয়া গেল ম্যাচের ৭৫ মিনিটে। 

মাঝমাঠের একটু উপর থেকে বল পেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত দৌড় এবং তুরস্কের ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে জায়গা খুঁজে নিয়ে বাঁ-পায়ের দুরন্ত শটে গোল করলেন কনর মেটক্যাফে। কার্যত, সবুজ গালিচায় যেন ফুল ফোটালেন তিনি। অসাধারণ দক্ষতা এবং ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশ দেখল গোটা ফুটবল বিশ্ব। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। সেইসঙ্গে, অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে গেল ২-০ গোলে।

আসলে তুরস্ক যখন ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এই গোল। ফলে, ম্যাচের রশ ফের নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় অজিরা। সেইসঙ্গে, অস্ট্রেলিয়া গোলকিপার পি. বিচের প্রশংসা করতেই হয়। অসাধারণ বেশ কয়েকটি সেভ করেন তিনি।