শিরোনাম

টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমি কাজে বিশ্বাসী কোন কথায় বিশ্বাসী না সেলিমুজ্জামান সেলিম (এমপি) পহেলা বৈশাখে খালেদা জিয়াকে স্মরণ মির্জা ফখরুলের বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার আগামীর বাংলাদেশ শিশুদের উপযোগী করতে সরকার বদ্ধপরিকর: ডা. জাহিদ
ছবি: সংগৃহীত।

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’


‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’


‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’
‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’


‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’


‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

পূর্বাচলের সেই জমির বিষয়ে যা বললেন আরিফিন শুভ

শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকে অভিনয়ের বিনিময়ে আলোচিত সেই জমি পাননি ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ। 

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। তার ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাই, ব্যক্তিগত জীবনের বিয়োগান্তক ঘটনা এবং বহুল আলোচিত 'মুজিব' সিনেমা নিয়ে নানা বিতর্কের জবাব দিয়েছেন আরিফিন শুভ।

শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকে অভিনয়ের জন্য মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন শুভ। পরবর্তীতে গুঞ্জন ওঠে, বিনিময়ে তিনি সরকারের কাছ থেকে পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি প্লট উপহার পেয়েছেন। 

এ বিষয়ে শুভ বলেন, আমাকে কোনো জমি দেওয়া হয়নি। আমি কেবল আবেদন করেছিলাম, যা আরও ১৫১ জন শিল্পী করেছিলেন। ১ টাকা নিয়েছিলাম বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের প্রতি আবেগ থেকে, আর আবেদনটি ছিল ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু সেই জমির কোনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি, আমি সেখানে যাইওনি।

২০২৪ সালকে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন সময় অভিহিত করে শুভ জানান, এই বছরেই তিনি তার সবচেয়ে কাছের মানুষ মাকে হারান। একই সময়ে তার দীর্ঘদিনের বৈবাহিক জীবনেরও ইতি ঘটে। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শুভ এক ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়ালে’র শিকার হন বলেও দাবি করেন।

শুভ বলেন, রাজনীতিতে নিজের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। আমার মনে হয় ‘মুজিব’ সিনেমায় অভিনয় করার কারণেই আমাকে টার্গেট করা হয়েছিল। কিন্তু আমি সারাজীবন অভিনয়ই করেছি। আমাকে কেউ কখনও রাজনৈতিক কোনো কিছুর সঙ্গে প্রমাণ করতে পারবে না।

এই কঠিন সময়ে সহকর্মীদের পাশে না পাওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এ অভিনয় শিল্পী, কারণ এর মাধ্যমেই তিনি আসল মানুষদের চিনতে পেরেছেন। নিজের জীবনের লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হিসেবে মাকেই দেখছেন এই অভিনেতা। 

সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত মায়ের ৯ বছরের সেবা এবং তার কঠিন সংগ্রামের গল্প শুনিয়ে শুভ বলেন, মা ৯০০০ টাকা বেতনে চাকরি করে আমাদের বড় করেছেন। আমার হার না মানার মানসিকতা তারই দেওয়া। 

দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতাকে গুরুত্ব দিলেও মানসিক কষ্টকে সমাজ আজও রোগ হিসেবে গণ্য করতে চায় না।

মুম্বাইয়ের কাস্টিং এজেন্সির মাধ্যমে দীর্ঘ অডিশন শেষে শুভ যুক্ত হয়েছেন নতুন কাজ ‘সিটি’-তে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও কলকাতার মিউজিক্যাল কালচার নিয়ে এই কাজটির জন্য তিনি বেশ আশাবাদী। ক্যারিয়ারের শুরুতে মাত্র ২৫৭ টাকা পকেটে নিয়ে ঢাকায় আসা শুভ ভবিষ্যতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখেন।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

উইজডেনের বর্ষসেরা হলেন স্টার্ক ও দীপ্তি

নারী ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক আসরে এতদিন বড় সাফল্য পায়নি ভারত। হরমনপ্রীত কৌর ও স্মৃতি মান্ধানারা একাধিকবার চেষ্টা করেও আইসিসি বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তিনবার ফাইনালে উঠেও ব্যর্থ হয় তারা।

তবে সেই হতাশা কাটে গত বছর। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে ভারত। মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন দীপ্তি শর্মা—ব্যাট হাতে করেন ৫৮ রান এবং বল হাতে নেন ৫টি উইকেট।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দারুণ খেলেন এই অফস্পিনার, যার ফলে তিনি টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার জেতেন। বিশ্বকাপে ২১৫ রান ও ২২ উইকেট নেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘উইজডেন’-এর বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন।

পুরুষদের বিভাগে একই সম্মান পেয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ২০২৫ সালে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই বাঁহাতি পেসার টেস্টে ৫৫ উইকেট নেন এবং বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির রেকর্ড গড়েন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচে ৫৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন তিনি।

স্টার্কের নেতৃত্বে অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডকে হারায় অস্ট্রেলিয়া, যেখানে তিনি একাই নেন ৩১ উইকেট। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে বর্ষসেরা হন অভিষেক শর্মা।

এছাড়া উইজডেনের বছরের সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের তালিকায় আধিপত্য দেখিয়েছে ভারত। শুবমান গিল, রবীন্দ্র জাদেজা, ঋষভ পন্ত ও মোহাম্মদ সিরাজ জায়গা করে নিয়েছেন এই তালিকায়। এজবাস্টন টেস্টে ৪৩০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে গিল ‘উইজডেন ট্রফি’ জিতেছেন। তালিকার বাকি একমাত্র বিদেশি খেলোয়াড় হাসিব হামিদ, যিনি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ১২৫৮ রান করে নটিংহ্যামশায়ারকে শিরোপা জিতিয়েছেন।