শিরোনাম

স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে ২,৬০০ ডলার পাবে অবৈধ অভিবাসীরা সংরক্ষিত আসন না পেয়ে ট্রেনে উত্তেজনা, গ্রেপ্তার অভিনেত্রী অন্তরা জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯০৮ বিদ্যালয়ের দখলকৃত জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন :
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

সংরক্ষিত আসন না পেয়ে ট্রেনে উত্তেজনা, গ্রেপ্তার অভিনেত্রী অন্তরা

মুম্বাইয়ে ট্রেনের সংরক্ষিত আসন নিয়ে বচসার জেরে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মডেল-অভিনেত্রী অন্তরা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে। ৩১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার করে রেলওয়ে পুলিশ।

অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট আরাবল্লী এক্সপ্রেসের একটি সংরক্ষিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় উঠে আরপিএফ কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পোশাক খুলে ব্লেড হাতে হামলার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, শুটিংয়ের কাজে সুরাট যাচ্ছিলেন অন্তরা। তাঁর কাছে ছিল স্লিপার শ্রেণির টিকিট। অভিযোগ, ওই টিকিট থাকা সত্ত্বেও তিনি আরাবল্লী এক্সপ্রেসের সংরক্ষিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় উঠে পড়েন। ঘটনাটি ঘটে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বোরিভলি ও দাহানুর মধ্যবর্তী এলাকায়। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, এক যাত্রী তাঁকে সংরক্ষিত আসন ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু অন্তরা আসন ছাড়তে অস্বীকার করলে ওই যাত্রী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আরপিএফকে জানান।

এরপর আরপিএফের সহকারী উপপরিদর্শক যামিনীকান্ত মিশ্র ও কনস্টেবল রাজেশ কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন অন্তরা। একপর্যায়ে তাঁর আচরণ আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, একসময় নিজের পোশাক খুলে হাতে রেজর ব্লেড নিয়ে আরপিএফ কর্মীদের ভয় দেখাতে শুরু করেন অভিনেত্রী। অভিযোগ, ওই ব্লেড দিয়ে এক কর্মকর্তাকে আঘাতও করেন তিনি।

এ ঘটনায় নিজেও আহত হন অন্তরা। যামিনীকান্ত মিশ্রের অভিযোগ, তাঁর পোশাক ও মোবাইল ফোনও নষ্ট করেন অভিনেত্রী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় কামরার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।অভিযোগ, তখন কামরা থেকে বের হওয়ার জন্য জানালার কাচ ভাঙারও চেষ্টা করেন অন্তরা। পরে দাহানু স্টেশনে তাঁকে ট্রেন থেকে নামিয়ে সরকারি রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) হাতে তুলে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, পুরো ঘটনা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। এতে ট্রেনের অন্য যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বোরিভলি রেলওয়ে পুলিশ অন্তরাকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকিট না পাওয়ায় অভিনেত্রী সম্ভবত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে অন্তরাকে পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি বলে দাবি করা হয়েছে। বরং তাঁকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানান অভিনেত্রী। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এফআইআর দায়ের হওয়ার পর অন্তরা কিছুটা শান্ত হন।

তাঁর বিরুদ্ধে জনসুরক্ষা বিপন্ন করা, সরকারি কর্মীকে গুরুতরভাবে আহত করা, হামলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে নোটিশও দেয়। পরে জামিনে মুক্তি পান অভিনেত্রী। তবে ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।
 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

টেস্ট ক্রিকেটে টানা চারদিন বাংলাদেশের জন্য দুর্দান্ত কাটল। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অজিদের বিপক্ষে ৯ নম্বরের দল অবিশ্বাস্য এক জয়ের দেখা পেল।

২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত যেন তৈরি হয়ে গেল।

দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।

এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।

প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ এবার ডাক মারলেন। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার স্মৃতি অজিদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কোনো কাজে দিলো না। ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পূরণ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখল বাংলাদেশ।