শিরোনাম

আর্জেন্টাইন ফুটবলারের স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৫০০ আজ দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির জব্দ করা ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস মান্দায় মাটি কাটার মহোৎসব রাস্তাঘাটের বেহাল দশা
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারও বাংলা সিনেমায় অনুপম খের

দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারও বাংলা চলচ্চিত্রে ফিরছেন বলিউডের বরেণ্য অভিনেতা অনুপম খের। এবার অভিনেতা হিসেবে নয়, প্রযোজকের ভূমিকায় নতুন বাংলা সিনেমা ‘শুরু থেকে শুরু’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি।

১৯৯৯ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘বাড়িওয়ালি’ ছবির প্রযোজনার পর বাংলা চলচ্চিত্রে আর সক্রিয় ছিলেন না অনুপম। মাঝখানে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ মুক্তিকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে তৈরি হওয়া জটিলতায়ও হতাশ হয়েছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফের বাংলায় কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেতা-প্রযোজক।

অনুপম প্রযোজিত নতুন ছবি ‘শুরু থেকে শুরু’ পরিচালনা করবেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরদৌসুল হাসানের সঙ্গে যৌথভাবে ছবিটি প্রযোজনা করছেন তিনি। সিনেমাটির প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করবেন টোটা রায়চৌধুরী, পাওলি দাম ও রাহুল বোস।

পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন অনুপম। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, নতুন সরকারের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলার চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেন। অনুপম বলেন, ‘এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির থেকেই আমাদের সবকিছু শেখা। বাংলা থেকে শুরু পথচলা। গান-বাজনা হোক অথবা সিনেমা, সাহিত্য অথবা পরিচালনা সবকিছুই এই বাংলার থেকেই শিখেছি আমি। তাই আমি চাই বাংলায় অ্যাক্টিং স্কুল বানাতে।

মুখ্যমন্ত্রী আমাকে শুভকামনা জানিয়েছেন। আগামী দিনে এই স্কুল তৈরির স্বপ্নকে পূরণ করার ইচ্ছা আছে।’ গল্পের দিক থেকেও ব্যতিক্রমী হতে যাচ্ছে ‘শুরু থেকে শুরু’। একদিকে বাবা-মেয়ের আবেগঘন সম্পর্ক, অন্যদিকে এক দম্পতির জীবনের কঠিন বাস্তবতা- দুটি সমান্তরাল গল্পকে কেন্দ্র করেই এগোবে সিনেমার কাহিনি। পাহাড়ের শান্ত ও নৈসর্গিক পরিবেশে নির্মিত হবে ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরিচালক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যও এটি একটি বিশেষ কাজ। দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপন নির্মাণে যুক্ত থাকলেও এটিই তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে শুটিং। এরপর আগামী বছর বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সিনেমাটির।

 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

আর্জেন্টাইন ফুটবলারের স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝে এক মর্মান্তিক সংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল বিশ্বে। ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়েছেন পেশাদার আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো। দীর্ঘ ৭৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অনুসন্ধানের পর শনিবার রাতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

১৯৮৭ সালে আর্জেন্টিনার কর্ডোবায় জন্ম নেওয়া লুকাস ত্রেহো পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনা, স্পেন, গ্রিসের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। তবে গত ১০ বছর ধরে তিনি ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন ক্লাবে ফুটবল খেলতেন। বর্তমানে তিনি ভেনিজুয়েলার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব মারিতিমো দে লা গুয়াইরাতে খেলছেন। দীর্ঘদিন ভেনিজুয়েলায় খেলার সুবাদে তিনি ঘরও বেধেছেন এখানেই।

গত ২৪ জুন যখন ভেনিজুয়েলার লা গুয়াইরা অঞ্চলে জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে, তখন ত্রেহো ক্লাবের হয়ে কোপা ভেনিজুয়েলার ম্যাচ খেলতে রাজধানী কারাকাসে ছিলেন। তার স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা, ছেলে আরন ত্রেহো ও মেয়ে আইনহোয়া ত্রেহো লা গুয়াইরার প্লায়া গ্র্যান্ডেতে নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। ভবনটি ধসে পড়লে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।

পরিবারের নিখোঁজের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লুকাস ত্রেহো এক হৃদয়বিদারক আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘প্লায়া গ্র্যান্ডেতে আমাদের ভবনটি ধসে পড়েছে। আমি আমার পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। দয়া করে সবাই তাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং এই বার্তাটি শেয়ার করুন—যদি কেউ তাদের দেখে থাকেন। আমি বিশ্বাস করতে চাই যে তারা সেখানে ছিল না। প্লিজ আমার পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন।’

পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তানদের খোঁজ পেতে ব্যাকুল লুকাস আত্মীয়-স্বজন, ফুটবলার বন্ধু, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী এবং পেশাদার উদ্ধারকারী দল নিয়ে একটি মরিয়া অনুসন্ধান অভিযান চালিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত এক বেদনাদায়ক পরিণতিতে রূপ নিল।

ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা এই প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১,৪৩০ জন এবং আহতের সংখ্যা ৩,৫০০ ছাড়িয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলাকারী কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও নিখোঁজ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষের খোঁজ পাওয়া গেলে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

লুকাস ত্রেহোর এমন অপূরণীয় ক্ষতিতে বিশ্ব ফুটবলের অসংখ্য ভক্ত ও সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করেছেন। বিশ্বকাপের এই সময়ে তার এই ব্যক্তিগত বিয়োগান্তক ঘটনা ফুটবল অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।