শিরোনাম

আপনাকে খুশি রাখার জন্য আমি নিজের মত বদলাব না: অরিজিৎ সিং আমরা চলছিলাম মদিনার দিকে, হঠাৎ দেখি কাফেলা যাচ্ছে আমেরিকার দিকে: ফয়জুল করিম জিয়া হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর ট্রাইব্যুনালে মেসির বক্তব্য ও ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকাল সকাল বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

আপনাকে খুশি রাখার জন্য আমি নিজের মত বদলাব না: অরিজিৎ সিং

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে দেশজুড়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। সোমবার সংসদ অভিযানের পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (আগের টুইটার)-এ একটি পোস্ট করে তিনি ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। কেউ তাঁর সাহসী অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ প্রকাশ্যে বিরোধিতাও করেছেন।

অরিজিতের পোস্টে ছিল ক্ষোভের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। তিনি লেখেন, 'পড়ুয়াদের মারধর করা হচ্ছে! দিল্লি পুলিশ, আপনাদের কি একবারও লজ্জা করছে না? নেতা-মন্ত্রীদের বলছি, এ সব কী হচ্ছে? নিজেদের কি ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছেন? সব কিছুর হিসাব একদিন হবে। হর হর মহাদেব।' একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, 'পরিবর্তনই একমাত্র ধ্রুবক।'

অরিজিতের মন্তব্যে যেমন বহু মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন, তেমনই একাংশের আপত্তিও সামনে এসেছে। এক ভক্ত মন্তব্য করে লেখেন, তিনি অরিজিতের রাজনৈতিক অবস্থানে হতাশ। তাঁর দাবি, এতদিন যাঁকে শ্রদ্ধা করতেন, সেই সম্মান নাকি আর রইল না। এমনকি তিনি লেখেন, এখন থেকে তিনি অরিজিৎকে ঘৃণা করেন।

এই কড়া সমালোচনার জবাবে উত্তেজিত না হয়ে অত্যন্ত সংযত ভাষাতেই উত্তর দেন অরিজিৎ। তিনি জানান, কেউ তাঁকে সম্মান করলেন কি না, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। কারণ প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতামত থাকার অধিকার রয়েছে। তাঁর কথায়, 'আপনি আমার গান ভালোবাসেন বলেই যে আমার প্রতিটি মতের সঙ্গে একমত হবেন, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। আবার আপনাকে খুশি রাখার জন্যও আমি নিজের মত বদলাব না।”

তবে এখানেই থেমে থাকেননি গায়ক। অরিজিৎ লিখেছেন, 'মানুষ হিসেবে আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। আমার কথায় যদি আপনার খারাপ লেগে থাকে, তার জন্য দুঃখিত। কিন্তু আমি যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি, তা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করেছি, আর সেই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনও কারণ দেখছি না।'

শেষে ভক্তকে উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, 'আপনি চাইলে আপনার প্লেলিস্ট থেকে আমার সব গান মুছে দিতে পারেন। চাইলে আমাকে সম্পূর্ণ ভুলেও যেতে পারেন। আপনার জীবনের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল। কিন্তু আমার মত বদলাবে না।'

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

মেসির বক্তব্য ও ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ

টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সোনালী সুযোগ একদম হাতের নাগালেই ছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াইটুকুও করতে পারেনি আলবিসেলেস্তারা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি লিওনেল মেসির দল। অতিরিক্ত সময়ে দুটি শট নিলেও তার একটিও অন-টার্গেটে ছিল না। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এমন বিপর্যস্ত পারফরম্যান্সের পর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নানা ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’।
ফাইনালের পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ড্রেসিংরুমের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

যেখানে দেখা যায়, মাঠে নামার আগে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে মেসি বলছেন, ‘সবাই শান্ত হও। চলো আমরা শান্ত থাকি। শুধু খেলার কথা ভাবি, ঠিক আছে? চলো আমরা অন্য সবকিছু ভুলে যাই, শুধু খেলায় মনোযোগ দিই।’ মেসির এই ‘সবকিছু ভুলে যাই’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নানামুখী বিতর্ক।

কেউ দাবি করছেন, ম্যাচে নামার আগেই দলের ভেতর কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল। আবার কেউ বলছেন, এনজো ফার্নান্দেজের অযথা রেফারির সঙ্গে কথা বলে প্রথম হলুদ কার্ড পাওয়া কিংবা খেলোয়াড়দের গম্ভীর মুখ সবই ছিল এক রহস্যজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত।

তবে এসব জল্পনা-কল্পনা ও ষড়যন্ত্রের গল্পকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো ফ্যাবিয়ান আয়ালা। আর্জেন্টিনাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘এসব কথা আমরা শুনি আর ভাবি—মানুষ কীভাবে এসব বলতে পারে? কারণ এসবের কিছুই ঘটেনি। বরং ঘটেছে ঠিক উল্টোটা।

স্পেনের আধিপত্য স্বীকার করে আয়ালা যোগ করেন, ‘একটি দল আমাদের ছাড়িয়ে গেছে, বিষয়টি এতটুকুই। এর বাইরে কিছু খোঁজার দরকার নেই। আমাদের শুধু মাঠের ফুটবল নিয়েই কথা বলা উচিত, যা সত্যিই ঘটেছে।’

একই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও। নিজ শহর পুজাতোতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব খবরের কোনো অস্তিত্ব নেই। ‘আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখি না। এসব সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই’, বলেন স্কালোনি।

কিন্তু স্কোয়াডের মধ্যে একতা ছিল কি না কিংবা কোনো অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছিল কি না—এমন প্রশ্নে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এই সফল কোচ। লাফিয়ে গাড়ি থেকে বের হয়ে দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না আপনারা কী বলছেন! আমরা একেবারে ভিন্ন পথে হাঁটছি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই ছেলেরা তাদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে, এই জার্সিতে তারা জাত চিনিয়েছে এবং আমাদের সেদিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।’