শিরোনাম

মোবাইলের ছোট ভিডিওতেই আয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা দিল্লির আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশকে নিশানা দিলীপ ঘোষের একই ফ্রেমে দক্ষিণী সিনেমার তিন তারকা, উদ্দেশ্যে কী? ‘পরিবারের ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব পরিচয় আছে’ নতুন লঘুচাপের আভাস, ৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

একই ফ্রেমে দক্ষিণী সিনেমার তিন তারকা, উদ্দেশ্যে কী?

রূপালী পর্দার তারকাখ্যাতি আর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মেলবন্ধনে দক্ষিণী সিনেমার তিন জনপ্রিয় মুখকে একসঙ্গে এক ফ্রেমে বন্দী হতে দেখে অনুরাগীদের মনে তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতূহল। ঠিক কী উদ্দেশ্যে একত্রিত হলেন এই তিন তারকা?

আসন্ন পিরিয়ড অ্যাকশন ড্রামা ‘রণবাগী’ মুক্তির আগে মেগাস্টার তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে দেখা করলেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। মূলত আসন্ন সিনেমার প্রচারের পাশাপাশি প্রিয় তারকা ও অনুপ্রেরণাদায়ী নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছিল।

সামাজিক মাধ্যমে এই সাক্ষাতের মিষ্টি মুহূর্তগুলো শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছেন বিজয় ও রাশমিকা। রাশমিকা তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে যার অন্ধ ভক্ত তিনি, যার সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে এবং যিনি আজ একজন সফল মুখ্যমন্ত্রী- তার এই পথচলা অত্যন্ত অবিশ্বাস্য ও অনুপ্রেরণাদায়ী।

অন্যদিকে, বিজয় দেবেরাকোন্ডা জানান, ব্যস্ত দিনের শেষেও থালাপতি বিজয় যেভাবে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন এবং জীবন ও কাজের মূল্যবান অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন, তাতে এক সাক্ষাতেই তিনি সকলের প্রিয় হয়ে উঠেছেন।

আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে পরিচালক রাহুল সাংকৃত্যায়নের এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি। ১৮৭৬-৭৮ সালের মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক সাধারণ মানুষের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। ছবিতে সিঙ্গারামালা ববিলি রণবাগী চরিত্রে বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং তার স্ত্রী জয়াম্মার চরিত্রে রাশমিকা মান্দানা অভিনয় করেছেন। ছবির মুক্তি দোরগোড়ায় থাকায় তারকাদের এই বিশেষ সাক্ষাৎ বিনোদন মহলে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

সৌদি আরবের পতাকায় চুমু খেলেন রোনালদো

নেফতচির বিপক্ষে জয়ের পর আল নাসরের সমর্থকদের চমকে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই পর্তুগিজ অধিনায়ক এমন একটি কাজ করেছেন, যা সবার নজর কেড়েছে। হুথিদের আক্রমণে যখন সৌদি আরব বিপর্যস্ত, তখন দেশটির প্রতি নিজের ভালোবাসাটা তিনি স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের দ্বিতীয় রাউন্ডে আল নাসর ৩-১ গোলে জিতেছে। ৪২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এর আগে অ্যাঞ্জেলো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে নেফতচির ডিফেন্ডার বুয়ান সিগের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে।

ম্যাচ শুরুর আগেই এই লড়াই নিয়ে খানিকটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। রিয়াদে ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিট আগে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স একটি নিরাপত্তা সতর্কতা দেয়। তাই খেলা শুরু হতে দেরি হয়। রিয়াদের একাধিক জায়গা সম্প্রতি ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

খেলা যখন বন্ধ ছিল, ক্যামেরায় তখন রোনালদোকে দেখা যায়। তিনি আল নাসরের জার্সিতে থাকা সৌদি পতাকায় চুমু খাচ্ছিলেন। সৌদি আরবে খেলতে আসার পর থেকে এই দেশের প্রতি তার যে কৃতজ্ঞতা, দৃশ্যটি তা-ই বোঝায়। ম্যাচ শেষে তিনি আরেকভাবে নিজের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

উদযাপনের মাঝখানে রোনালদো সমর্থকদের কাছে একটি স্কার্ফ চান। সেই স্কার্ফে ছিল সৌদি পতাকা। তিনি সেটি কাঁধে জড়িয়ে নেন। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে এই কাজ তার উদযাপনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

আল নাসরের পরের ম্যাচ ১৬ অক্টোবর। সৌদি প্রো লিগে তারা আল আহলির মুখোমুখি হবে।