শিরোনাম

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন দল যার যার কিন্তু মেসি সবার: বুবলী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কি মেসির মতো জ্বলে উঠতে পারবেন! স্বামী-স্ত্রীর জামাতে নামাজ: ইকামত দেবেন কে এবং স্ত্রী কোথায় দাঁড়াবেন? সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশিক রুবাইয়াতের পদত্যাগ
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

দল যার যার কিন্তু মেসি সবার: বুবলী

সবুজ গালিচায় যখন জাদুকর লিওনেল মেসির পা ছোঁয়, তখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের কট্টর সমর্থকেরও চোখ ফেরানো দায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নেমে সেই চেনা ম্যাজিক দেখালেন আর্জেন্টাইন। ম্যাচের মাত্র ১৭ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক গোল করে আলবিসেলেস্তেদের এনে দেন প্রথম সাফল্য। এরপর একে একে আরও দুই গোল।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে আর্জেন্টিনার শুরুটা হলো একদম মেসিময়। আর তার জাদুকরী হ্যাটট্রিকেই আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

মাঠের সেই ফুটবল উন্মাদনা গ্যালারি কিংবা স্টেডিয়ামের গণ্ডি পেরিয়ে এবার আছড়ে পড়েছে সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে শোবিজ তারকাদের মনেও। আর তাতেই নিজের ফুটবল আবেগকে ধরে রাখতে পারলেন না ঢাকার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী।

ব্যক্তিগত জীবনে বুবলী কিন্তু আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক। তবে চিরবৈরী শিবিরের হয়েও মেসির এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে বুঁদ হয়েছেন এই ঢালিউড সুন্দরী। আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত এই শুরুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে বুবলী যেন বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন ছুড়েছেন, ‘মেসি এত ভালো খেলে কেন?’

ব্রাজিলকে সমর্থন করলেও মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ ঢালিউড অভিনেত্রী বুবলী। সামাজিক মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এই লোকটা কীভাবে এত দারুণ খেলে? লিওনেল মেসি আসল জাদুকর। দল যার যার, কিন্তু মেসি সবার!’

ব্রাজিল সমর্থক হয়েও মেসির প্রতি বুবলীর এমন অকপট প্রশংসা ও মুগ্ধতা এরই মধ্যে নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কি মেসির মতো জ্বলে উঠতে পারবেন!

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের একজন আইকন এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবল খেলোয়াড়। ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতার ক্ষেত্রে তিনিই দলের মূল স্তম্ভ হতে পারেন। আজ রাত ১১টায় তার দল মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে।

পর্তুগাল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রোনালদো হতে চলেছেন ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলা দ্বিতীয় খেলোয়াড়। এর আগে সকাল সাতটায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি তারকা লিওনেল মেসি প্রথম এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। একদিকে এটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের জন্য একটি উপযুক্ত অর্জন। মেসি এবং আর্জেন্টিনার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের আগে— কে সেরা, এই বিতর্কের কার্যত অবসান ঘটানোর আগে, তাদের ক্যারিয়ার জুড়ে রোনালদো এবং মেসির মধ্যে অবিরাম তুলনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ৩৮ বছর বয়সেও মেসি আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভিত্তি এবং দলের কেন্দ্রবিন্দু। এরইমধ্যে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে মেসি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ আরেকবার দিয়েছেন। রোনালদো কি পারবেন দলের হয়ে মেসির মতো জ্বলে উঠতে। যদিও মাঠে রোনালদো না থাকলেও পর্তুগাল ভালো খেলতে পারে। সে যোগ্যতা দলটির রয়েছে। ইয়াহু স্পোর্টস

৪১ বছর বয়সী খেলোয়াড় রোনালদো এখনও একজন দক্ষ স্ট্রাইকার, কিন্তু তিনি আর আগের মতো নেই। আগের মতো ঘন ঘন প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন না এবং তার আগের মতো সেই দুর্দান্ত গতিও নেই। অবশ্যই, তিনি এখনও জাদুকরি মুহূর্ত তৈরি করতে পারেন। কিন্তু ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার দ্বিতীয় অধ্যায় ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে তিনি গত চার মৌসুম ধরে সৌদি আরবের প্রো লিগে খেলছেন। পঞ্চাশের কোঠায় থাকা একজন খেলোয়াড়, যিনি একটি মাঝারি মানের ঘরোয়া লিগে খেলেন, তিনি কি বিশ্বকাপে সত্যিই পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন? পর্তুগাল অবশ্য সেটাই আশা করে।

রোনালদো যখন ২১ বছর বয়সে তার প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছিলেন। তখন তিনি উইংয়ে ছয়টি ম্যাচেই শুরু থেকে খেলেছিলেন এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক পেনাল্টি কিকে গোল করেছিলেন। যার ফলে পর্তুগাল চতুর্থ স্থান অর্জন করে। কিন্তু তিনি পর্তুগাল-এর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার পর থেকে, দেশটি দুইবার গ্রুপ পর্ব পার হতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্য দুটি টুর্নামেন্টেও কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারেনি।

এই ব্যর্থতার জন্য শুধু রোনালদোই দায়ী নন। সাম্প্রতিক অনেক বিশ্বকাপে পর্তুগালকে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক খেলার জন্য দোষারোপ করা যেতে পারে। ২০১৮ সালে, তিনি গ্রুপ পর্বে চারটি গোল করেছিলেন, এরপর পর্তুগাল রাউন্ড অব সিক্সটিনে উরুগুয়ের কাছে হেরে যায়।

তবে, রোনালদো কোনোভাবে এখনও গ্রুপ পর্বের খেলার বাইরে তার প্রথম গোলের সন্ধানে রয়েছেন। ২২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে রোনালদোর গোল সংখ্যা আট। এই আটটি গোলই এসেছে নকআউট পর্বের আগে। বিশ্বকাপে তার একমাত্র অ্যাসিস্টটিও এসেছিল গ্রুপ পর্বে। অন্যদিকে, মেসির বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট সংখ্যা ছয়। হ্যাঁ, তারা দুজন ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলেন — মেসি মূলত একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ড প্লেমেকার, আর রোনালদো একজন সত্যিকারের ফরোয়ার্ড — কিন্তু এই পরিসংখ্যানের পার্থক্যটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

রোনালদো এমন একজন খেলোয়াড় যিনি গোল করার সুযোগ প্রায় কখনোই হাতছাড়া করেন না। পর্তুগালের ফ্রি-কিক এবং পেনাল্টি কিকগুলোতে তার আধিপত্য দেখলেই এটি স্পষ্ট বোঝা যায়, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তার ফ্রি-কিক সাফল্যের হার তলানিতে এসে ঠেকেছে।

তিনি কোনো বড় টুর্নামেন্টে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে মাত্র একটি গোল করেছেন। সেটি এসেছিল সেই ২০১৮ বিশ্বকাপে। সম্প্রতি রোনালদো ফ্রি-কিক নেওয়ার দায়িত্ব ভাগ করে নিতে শুরু করেছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান সেরা খেলোয়াড় ব্রুনো ফার্নান্দেস নিজেও একজন ফ্রি-কিক বিশেষজ্ঞ। তিনি পর্তুগালের আক্রমণভাগের  সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়ের মুকুটও জয় করেছেন।

৩১ বছর বয়সী ফার্নান্দেস পর্তুগালের হয়ে একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে মেসির মতোই ভূমিকা পালন করবেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৩৫টি ইপিএল ম্যাচে ফার্নান্দেস নয়টি গোল করেছেন এবং ২১টি অ্যাসিস্ট করে লিগের রেকর্ড গড়েছেন। তিনি নিখুঁত থ্রু বল দেওয়ার ক্ষেত্রে একজন ওস্তাদ, সেটা তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সতীর্থদের উদ্দেশ্যেই হোক, রোনালদোর উদ্দেশ্যেই হোক, বা তার জাতীয় দলের অন্য যেকোনো অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান সতীর্থদের উদ্দেশ্যেই হোক। বিশ্বকাপে সেট পিসগুলোতে ফার্নান্দেস কি রোনালদোর চেয়ে বড় ভূমিকা নেবেন? দেখা যাক!

পর্তুগালের মিডফিল্ডে তিনিই একমাত্র তারকা নন। বের্নাদো সিলভা, ভিতিনহা এবং জোয়াও নেভেসকে নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা মিডফিল্ডটি হয়তো দেশটিরই। রক্ষণভাগও অত্যন্ত মজবুত, কারণ মাঝমাঠে রয়েছেন রুবেন দিয়াস ও গনসালো ইনাসিও এবং দুই প্রান্তে রয়েছেন জোয়াও কানসেলো ও দিওগো দালোত।