শিরোনাম

বাবা-মায়ের গুনাহের দায় কি সন্তানের ওপর পড়ে? এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বাঁচা-মরার লড়াই বৃহস্পতিবার খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লিতে মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার নির্দেশ!
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া—মানবপাচারের পর মুক্তিপণ আদায়

মানবপাচার চক্রের মূল হোতা মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নেতৃত্বে লিবিয়ার প্রধান মাফিয়া আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ ও কালু শেখের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক, নির্যাতন এবং পাচারকারীদের হাতে বন্দিত্বের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ১৮ আগস্টও লিবিয়ার গ্যানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। (BSS⁠)

BMF News-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগের চিত্র। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে লিবিয়ায় নেওয়ার পর কিছু বাংলাদেশিকে আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের কাছে পাঠানো এসব ভিডিও ও ফোনকলের মাধ্যমে স্বজনদের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগে উঠে এসেছে মাদারীপুরের তাবিবুর রহমান ওরফে স্বপন মোল্লার নাম। তাঁর নেতৃত্বে লিবিয়ায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ।

এই অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—লিবিয়ার আশিক ওরফে ইমরান শেখ, বাংলাদেশি হাসান, বিষু মন্ডল, বাবু মোল্লা, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সম্রাট শেখ এবং কালু শেখ।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিওতে স্বজনদের কান্নাকাটি, মারধর কিংবা শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলো অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে জমি-জমা বিক্রি, ধারদেনা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাবি করা অর্থ পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্বজন।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের পাচার ও আটকে রাখার বিষয়টি যে বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনেও তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মে মাসে পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি ১২০ অভিবাসীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল; একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এমন পরিবারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, যাদের স্বজনরা লিবিয়ায় যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। The Daily Star-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শারিয়তপুর ও মাদারীপুরের অন্তত ২৩ তরুণের নিখোঁজ থাকার কথা উঠে এসেছে; তাঁদের পরিবার জানে না তারা ডিটেনশন সেন্টারে, পাচারকারীদের আস্তানায় নাকি ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্যদিকে, জুলাই মাসেও ১৭১ বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ সরকার, লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও IOM-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

BMF News-এর অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে—বাংলাদেশে কারা এসব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর কারা তাঁদের গ্রহণ করে, কোথায় তাঁদের আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ কোন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পাঠানো ভিডিও, অডিও রেকর্ড, মোবাইল নম্বর, টাকা পাঠানোর রসিদ, বিকাশ/ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

BMF News-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে—মানবপাচারের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

তিন দিনে ৩০০ কোটি পেরোল রজনীকান্তের ‘জেলার ২’

দর্শকদের উন্মাদনা আর বক্স অফিসের হিসাবনিকাশ ওলটপালট করে দিয়ে আবারও রূপালি পর্দায় ঝড় তুলেছেন ভারতীয় সিনেমার ৭৫ বছর বয়সি সুপারস্টার রজনীকান্ত। তার নতুন সিনেমা ‘জেলার ২’ মুক্তির পর থেকেই প্রেক্ষাগৃহে রাজত্ব করছে এবং মাত্র তিন দিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় ছাড়িয়ে গেছে ৩১৭ কোটি রুপি।

পরিচালক নেলসন দিলীপকুমারের পরিচালনায় এই সিক্যুয়েলটি মুক্তির পর থেকেই দুর্দান্ত ব্যবসা করছে। ভারতের বাজারে সিনেমাটির নেট কালেকশন দাঁড়িয়েছে ১৪৪.৬০ কোটি রুপি এবং গ্রস কালেকশন ১৬৯.৬৫ কোটি।

অন্যদিকে, বিদেশের বাজার থেকেও এসেছে ব্যাপক সাড়া। মাত্র তিন দিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটির গ্রস কালেকশন হয়েছে ১৪৭.৫০ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে দেশ ও বিদেশের আয়ে বিশ্বব্যাপী এর মোট গ্রস কালেকশন দাঁড়িয়েছে ৩১৭.১৫ কোটি রুপি।

মুক্তির প্রথম দিন ভারতে ৫৯.৭০ কোটি রুপি আয়ের পর দ্বিতীয় দিনে আয় কিছুটা কমে ৩৭.১০ কোটি হয়েছিল। তবে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ছুটির দিনে দর্শকসংখ্যা হু হু করে বেড়ে যায় এবং প্রায় ২৮.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিনেমাটি ১৪,৬০৪টি শো থেকে এক দিনে ৪৭.৮০ কোটি রুপি নেট আয় তুলে নেয়।

এর সুবাদে ‘জেলার ২’ রজনীকান্তের নিজেরই আগের দুই ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কাবালি’ (প্রায় ২৯৫ কোটি) এবং ‘এন্থিরান’ (প্রায় ২৯০ কোটি)-এর আজীবন মোট আয়কে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

ফলে মুক্তির তিন দিন পরই ‘জেলার ২’ রজনীকান্তের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ‘২.০’ (প্রায় ৬৬৮-৬৭৫ কোটি), এর পরেই রয়েছে ২০২৩ সালের ছবি ‘জেলার’ (প্রায় ৬০৫-৬৩০ কোটি) এবং ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কুলি’ (প্রায় ৫১৬-৫৪৮ কোটি)।

২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার হিট ‘জেলার’ ছবির ‘টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান’ চরিত্রেই দ্বিতীয় কিস্তিতে কামব্যাক করেছেন থালাইভা রজনীকান্ত। ছবিটির কাস্টিংয়েও রয়েছে দারুণ চমক। নেলসন দিলীপকুমারের এই সিক্যুয়েলে রজনীকান্তের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন মোহনলাল, শিবরাজকুমার, রাম্যা কৃষ্ণান, বিজয় সেতুপাতি, বিদ্যা বালান এবং মিঠুন চক্রবর্তীর মতো তারকারা। আর ছবির সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্র।

আয়ের দিক থেকে চলমান এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখে মনে হচ্ছে, থালাইভা ভক্তদের জন্য বক্স অফিসে আরও বেশ কিছু নতুন রেকর্ড ভাঙা কেবল সময়ের অপেক্ষা। 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বাঁচা-মরার লড়াই

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাতেই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে টাইগাররা। এবার তাদের সামনে আফগানিস্তান বাধা। বাঁচা-মরার ম্যাচে আজ আফগানদের মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়।

এই ম্যাচে জয় পেলে ফাইনালে ওঠার আশা টিকে থাকবে বাংলাদেশের। তবে এজন্য নেট রান রেটের কঠিন হিসাবও সামলাতে হবে তাদের।

জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। নেট রান রেটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের কাছে হারলেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে তাদের। অন্যদিকে, আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারলে নেট রান রেটে জিম্বাবুয়েকে টপকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।

এক ম্যাচে জয় পেয়ে বর্তমানে +৩.১৬০ নেট রান রেট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তান। এক জয় ও এক হারে -০.৫৯০ নেট রান রেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে জিম্বাবুয়ে। আর প্রথম ম্যাচে হারের পর -১.৯৮০ নেট রান রেট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ।

আজ আগে ব্যাটিং করলে অন্তত ৪১ রানের জয় পেতে হবে টাইগারদের। অন্যদিকে, পরে ব্যাটিং করলে লক্ষ্য কত, তার ওপর নির্ভর করবে জয়ের সময়সীমা। সমীকরণ অনুযায়ী, ২০০ রানের লক্ষ্য পেলে ৪০.২ ওভারের মধ্যে জিততে হবে বাংলাদেশকে। ২২০ রানের লক্ষ্য হলে জিততে হবে ৪০.৫ ওভারের মধ্যে। ২৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হবে ৪১.১ ওভারের মধ্যে। আর ২৫০ রানের লক্ষ্য পেলে জিততে হবে ৪১.৩ ওভারের মধ্যে।

এ ছাড়া ২৬০ রানের লক্ষ্য হলে ৪১.৪ ওভার, ২৭০ রানের লক্ষ্য হলে ৪১.৫ ওভার, ২৮০ রানের লক্ষ্য হলে ৪২ ওভার এবং ৩০০ রানের লক্ষ্য হলে ৪২.২ ওভারের মধ্যে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

ওয়ানডেতে দুই দল এখন পর্যন্ত ২২ বার মুখোমুখি হয়েছে। উভয় দলই জিতেছে ১১টি করে ম্যাচ। তবে সর্বশেষ ছয় লড়াইয়ের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। এই পাঁচটি জয়ই এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ও আবুধাবিতে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত/মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম।

আফগানিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ:
রহমত শাহ (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ, সেদিকুল্লাহ আতাল, ইব্রাহিম জাদরান, হাশমতউল্লাহ শহিদি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, জিয়া-উর-রহমান শরিফি, ফজল হক ফারুকি ও ইয়ামিন আহমদজাই।