শিরোনাম

বান্দরবানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদীর পানির বিপদসীমা অতিক্রম যুদ্ধবিরতি ভাঙলে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হবে: ইরান মিসরের বিপক্ষে ৩ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে, নিয়ম বলছে সবই ছিল সঠিক জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি চলছে: ইসি সানাউল্লাহ ১৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, সতর্ক সংকেত
ছবি: বিএমএফ টেলিভিশন।

লন্ডনে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ইউকের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘটিত রামিসা হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর , ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশে চলমান সহিংসতা, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আ.স.ম. মিসবা, মুজিবুল হক মনি, নাজমিন সুলতানা শিখা, মোহন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জহিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর, জামাল আহমদ, আংগুর আলী, জাকির হোসেন সেলিম, ফয়সল আহমদ,  আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মতব্বির হোসেন চুনু, হুমায়ুন কবির, আব্দুল জলিল চৌধুরী, আব্দুর রব, ছইল মিয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সাহেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছির, অ্যাডভোকেট বজলুর রশীদ, মুফতি আব্দুল ওদুদ, মুজিবুল হক মুজিব, ইমদাদুন খানম, জেসিকা চৌধুরী, রিপা আক্তার, শাহ লাভলী রহমান, জামিলা খানম, সাগর চৌধুরী মোহন, ময়না মিয়া, মকবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, নুরুল হক, মোহাম্মদ রুনু, সৈয়দ গোলাব মিয়া, আবুল হোসেন, একলিম মিয়া, নাজমুল হোসেন, জুবেল আহমদ বেলাল, শরীফ আলম, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, সেলিম আহমেদ, রুমেল খান, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হকসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সকল ধরনের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

‘খেলা জীবনের চেয়ে বড় নয়’

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পর কুষ্টিয়ায় এক তরুণের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রিয় দলের পরাজয় এবং তা নিয়ে কটাক্ষ সহ্য করতে না পেরে ওই তরুণ আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনাটি জানার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। সোমবার (৬ জুলাই) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রতন (২১) ওই এলাকার হোসেন মিস্ত্রির ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন।

পরিবারের ভাষ্য, ব্রাজিলের পরাজয়ের পর বিভিন্ন কটাক্ষে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। নিজেও ব্রাজিলের সমর্থক হওয়ায় ঘটনাটি অপূর্বকে নাড়া দিয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি খেলাকে বিনোদনের জায়গায় রাখার আহ্বান জানান এবং জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

অপূর্ব লিখেছেন, ‘ব্রাজিল হারায় কুষ্টিয়ার একটা ছেলে সুইসাইড করেছে, রেখে গেছে দুই মাসের শিশুসন্তান। এই নিউজটা দেখে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। আপনারা খেলাকে বিনোদন হিসেবে নিন। এখানে হার জিত থাকবেই। প্রিয় দল জিতলে ভালো লাগবে, হারলে খারাপ লাগবে। তবে সেটা জীবনের থেকে যেন বড় না হয়।

কারণ দিনশেষে এটা শুধু একটা খেলা।’ খেলাকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ট্রল থাকলেও তা যেন সীমা না ছাড়ায়, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

তার কথায়, ‘ট্রল খেলার অংশ। তবে অতিরিক্ত ট্রল, অপমান বা হেয় করাটাও বন্ধ করুন। আপনার কাছে এটা মজা হতে পারে, কিন্তু অন্য কারো জন্য সেটা মানসিকভাবে অনেক কষ্টের কারণ হতে পারে।’

সবশেষে জীবনকে খেলার চেয়ে বেশি মূল্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অপূর্ব লিখেছেন, ‘একটা দল হারলে আবার জিতবে, আজ ট্রফি না পেলে সামনে আবার পাবে। কিন্তু একটা জীবন চলে গেলে সেটা আর ফিরে আসে না।’

 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

মিসরের বিপক্ষে ৩ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে, নিয়ম বলছে সবই ছিল সঠিক

আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ভিএআরের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মিসরের বাতিল হওয়া গোল এবং শেষ দিকে দুটি পেনাল্টির আবেদন ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সাবেক ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, ম্যাচে ভিএআরের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই ছিল নিয়ম অনুযায়ী সঠিক।

ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মোস্তাফা জিকো দুর্দান্ত এক গোল করে মিসরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছেন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে।

ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি টেনে ধরার পাশাপাশি তার পায়ের ওপরও পা রেখেছিলেন।

অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, ভিএআরের হস্তক্ষেপ ছিল একেবারেই সঠিক।

তিনি বলেন, ওই ফাউল সরাসরি আক্রমণের গতিপথে প্রভাব ফেলেছিল এবং তার ফলেই গোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী গোলটি বাতিল করাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।

ডেভিসের ভাষ্য, ঘটনাটি মাঠের বেশ ওপরে ঘটায় অনেকের কাছে এটি বিতর্কিত মনে হতে পারে। কিন্তু একই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় যদি কোনো স্পষ্ট ফাউলের পর গোল হয়, তাহলে সেটি বাতিল করতেই হবে। ভিডিওতে জার্সি টানা এবং পায়ে চাপ দেওয়ার দৃশ্য দেখার পর রেফারির আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার সুযোগ ছিল না।

ম্যাচের শেষ দিকে মিসর দুটি পেনাল্টির আবেদন জানায়। প্রথম ঘটনায় আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে হামদি ফাথির জার্সি টানতে দেখা যায়। ফাথি মাটিতে পড়ে গেলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

এর কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকার কাছে মোহাম্মদ সালাহ অভিযোগ করেন, হুলিয়ান আলভারেজ তার পথে বাধা দিয়েছেন। তবে সেই আবেদনও নাকচ করে দেন ম্যাচ কর্মকর্তা।

দুই ঘটনাই ভিএআর পরীক্ষা করে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

অ্যান্ডি ডেভিসের মতে, প্রথম ঘটনায় ম্যাক অ্যালিস্টার কিছুটা ঝুঁকি নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু জার্সি ধরা ছিল খুবই সামান্য এবং তা দীর্ঘ সময় ধরে হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে হামদি ফাথির বল পাওয়ার সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি। তাই এটিকে পেনাল্টি দেওয়ার মতো গুরুতর ফাউল বলা যায় না।

সালাহর ঘটনাতেও তিনি ভিএআরের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।

ডেভিস বলেন, সালাহ পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আলভারেজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ফাউল হয়নি। দুই খেলোয়াড়ের বুটের মধ্যে স্বাভাবিক সংঘর্ষ হয়েছে এবং সেই গতি থেকেই সংস্পর্শ তৈরি হয়েছে। এটিকে পেনাল্টি দেওয়ার মতো অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না।

অনেকেই সালাহর ঘটনার সঙ্গে মিসরের বাতিল হওয়া গোলের আগের ফাউলের তুলনা করছেন। তবে ডেভিসের মতে, দুটি ঘটনার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাতিল হওয়া গোলের আগে ডিফেন্ডারের স্পষ্ট অবৈধ হস্তক্ষেপ ছিল, যেখানে জার্সি টানা এবং পায়ের ওপর চাপ দেওয়া—দুই ঘটনাই একসঙ্গে ঘটেছে। কিন্তু সালাহর ক্ষেত্রে তা ছিল দুই খেলোয়াড়ের স্বাভাবিক গতির মধ্যে বুটের সংস্পর্শ, যা ফাউলের পর্যায়ে পড়ে না।

সাবেক এই প্রিমিয়ার লিগ রেফারির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো রেফারি ও ভিএআরের জন্য কঠিন পরীক্ষা ছিল। তবে সবকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই ফুটবলের আইন এবং ভিএআর প্রোটোকল অনুসারে সঠিকভাবে নেওয়া হয়েছে।