শিরোনাম

২০২৬ সালের জাকাত-ফিতরা নির্ধারণ নওগাঁয় জমিজমা বিরোধে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর হামলা ৬ সিটিতে কেন রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী মেহেরপুরে বিষ প্রয়োগে লাল শাক পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত-১,আহত-১০
ছবি: সংগৃহীত।

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’


‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’


‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’
‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’


‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’


‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ।
 

বিনোদন

ছবি: সিফাত নুসরাত।

বাংলাদেশে প্রথম ওয়্যারউলফ-ভ্যাম্পায়ার গল্পে সিফাত নুসরাত

বাংলাদেশি অভিনেত্রী, মডেল ও উদ্যোক্তা সিফাত নুসরাত নতুন একটি সুপারন্যাচারাল সিরিজে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চলেছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভ্যাম্পায়ার এবং ওয়্যারউলফ কেন্দ্রিক গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে।


সিরিজের পাণ্ডুলিপি বই প্রকাশের আগেই রেড প্রোডাকশনস কিনে নেয় এবং দশ এপিসোডের একটি সিজন হিসেবে নির্মাণ করে। সিফাত নিজেই মেইন প্রোটাগোনিস্ট হিসেবে ভ্যাম্পায়ারের চরিত্রে অভিনয় করছেন। তার বিপরীতে থাকছেন অভিনেতা শ্যামল মাওলা, যিনি উলফের চরিত্রে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মানব চরিত্রে দেখা যাবে সামিরা খান মাহি-কে।


সিফাত নুসরাত জানিয়েছেন, এই সিরিজটি সব কাজ শেষ হতে সময় লাগলো প্রায় ৮ মাসের বেশি , ২০২৫ সাল থেকেই সিরিজটিতে কাজ করছিলেন নুসরাত। “আমাদের সিরিজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফার্স্ট সিজনের দশটি এপিসোডের মধ্যে সাতটি কমপ্লিট, বাকি তিনটির কাজও শিগগির শেষ হবে। ডাবিং কাজ শেষ হয়েছে এবং পোস্ট প্রোডাকশন চলছে। আমরা দর্শকদের সামনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুপারন্যাচারাল গল্পটি নিয়ে আসছি, যা সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা।”


তিনি আরও বলেন, “এটি আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক যে আমার লেখা পাণ্ডুলিপি বই প্রকাশের আগেই সিরিজে রূপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও নতুন কিছু কাজের পরিকল্পনা করছি।”


সুপারন্যাচারাল ভ্যাম্পায়ার ও উলফ গল্পের এই সিরিজটি প্রিমিয়ার শোসহ বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে হাজির হতে যাচ্ছে। জেনজি জেনারেশনের প্রথম জেনজি রাইটারের গল্প বই আকারে বাজারে না আসতেই কিনে নিয়েছে প্রডাকশন হাউস। 


সিফাত নুসরাত আরও জানান, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি সকল সাংবাদিক ভাই বোনদের কাছে , এতদিন পুরোপুরি যোগাযোগ বন্ধ রাখার কারণে। কারণ আমি কাজটা ঠিক মতন করতে চেয়েছি। সেটা সম্পূর্ণ না হওয়া অব্দি আমি অনেকের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে হয়েছে, এই উপন্যাস’ দ্য রেড মুন ‘ এবার বই মেলাতেও প্রকাশিত হচ্ছে। সকলের কাছে দোয়া চেয়ে সিফাত নুসরাত তার ভবিষ্যৎ কাজের জন্য এগিয়ে যেতে চান।