শিরোনাম

মাহে রমজান উপলক্ষে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে মুকসুদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির কোরআন শরীফ বিতরণ ৮০ হাজার নারীসহ এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সুখবর দিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও মিলছে না তেল বিশ্ব অস্থিরতায় বহুমুখী চ্যালেঞ্জে তারেক রহমানের সরকার বিয়েতে কত কেজি সোনার গহনা পরেছিলেন রাশমিকা?
ছবি: সংগৃহীত।

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’


‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’


‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’
‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’


‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’


‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

বিয়েতে কত কেজি সোনার গহনা পরেছিলেন রাশমিকা?

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। তাদের বিয়েকে করেছেন একেবারেই আলাদা ও অনন্য। শুধু বন্ধনের আনন্দ নয়, বরং তাদের বিয়েতে ব্যবহার করা সোনার গয়নার সংগ্রহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই জুটি বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে এটি ছিল কেবল আরেকটি তারকাখচিত বিয়ে নয়। বরং প্রাচীন ঐতিহ্যের ছোঁয়া এবং তাদের আন্তরিক আনন্দে ভরা এক বিশেষ আয়োজন।

‘বিরোশ’-বিজয় ও রাশমিকার নাম মিলিয়ে তৈরি-এই উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির শিল্পের আদলে তৈরি সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড সোনার গয়না। ধারণা থেকে নকশা এবং একাধিক ট্রায়াল মিলিয়ে পুরো সংগ্রহটি তৈরি করতে লেগেছে প্রায় ১০ মাস।

গয়নার বিশেষত্ব শুধু জাঁকজমক বা আকারে নয়। বর্তমান সময়ে যেখানে কনের সাজে হীরা এবং আন্তর্জাতিক ধাঁচের ডিজাইন বেশি দেখা যায়, সেখানে বিজয়-রাশমিকা বেছে নিয়েছেন শিকড়ের কাছাকাছি ঐতিহ্যবাহী ছোঁয়া। রাশমিকাকে কল্পনা করা হয়েছিল এক ‘জীবন্ত দেবী’ হিসেবে, আর বিজয়কে ‘সার্বভৌম রাজা’ রূপে।

রাশমিকাকে সাজানো হয়েছিল ১১টি প্রধান সোনার অলংকার দিয়ে, যা দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণায় তৈরি। গলার অলংকার ছিল পুরো সাজের কেন্দ্র। কলারবোনের কাছে বসানো ছিল লক্ষ্মী মূর্তির নকশা করা চোকার। স্তরে স্তরে ছিল কাসু মালা, যেখানে ক্ষুদ্র লক্ষ্মী মুদ্রার নকশা খোদাই করা হয়েছিল সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে।

বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের মন্দির স্টাইলের হারাম গলায় সাজানো হয়েছিল। সবশেষে একটি লম্বা মন্দির-চেইন শাড়ির আঁচলজুড়ে নেমে আসার ফলে পুরো অবয়বকে আরও দীর্ঘ ও ভারসাম্যপূর্ণ করা হয়েছে।

প্রতিটি অংশে ছিল গভীর নাক্ষি খোদাই এবং রাভা গ্রানুলেশন, যা সোনার গয়নায় কোমলতা ও গভীরতা যোগ করেছে। ফিনিশ ছিল অ্যান্টিক ম্যাট, উজ্জ্বল পালিশ নয়। ফলে গয়নাগুলো নতুনের চেয়ে বরং বহু প্রজন্মের ঐতিহ্য বহন করা পুরনো অলংকারের অনুভূতি দেয়।

মুখের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী মাথাপট্টি ও চুলের বেণিতে চাম্পাসারালু হেয়ারলাইন চেইন। সঙ্গে ছিল সূক্ষ্ম সোনার নাকফুল, উপরের বাহুতে দেবী মোটিফের বাজুবন্ধ, চুলের বেণিতে জাডা বিল্লা এবং কোমরে কামারবন্দ-সব মিলিয়ে প্রতিটি গয়নাই আলাদা গুরুত্ব বহন করেছে।

গয়নাগুলোর মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে বাজার বিশ্লেষকের ধারণা অনুযায়ী, প্রায় তিন কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য মোট মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় সাত কোটি রুপি। নিখুঁত কারুকাজে তৈরি এই সময়হীন ‘বিরোশ’ গয়নাই আজ এক ধরনের শিল্পকর্ম হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

বিয়ের এই গয়না শুধু সাজ নয়, বরং একটি গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। নতুন যুগের তারকাদের মধ্যে এমন ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক বিয়ের আয়োজন বিরল এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

লিওনেল মেসি, আপনাকে হোয়াইট হাউজে স্বাগতম: ট্রাম্প

ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার মেজর লিগ সকার (এমএলএস) জিতেছে ইন্টার মায়ামি। আর এই ক্লাবের হয়ে খেলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তাকেসহ পুরো দলকে হোয়াইট হাউজে অভ্যর্থনা জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মার্কিন প্রধানের জন্য মুহূর্তটা স্মরণীয় করে তোলেন একটি উপহার দিয়ে।
 

ট্রাম্প ও মায়ামির যৌথ মালিক জর্জে মাসের সঙ্গে ইস্ট রুমে প্রবেশ করেন মেসি। তারপর নিজের সই করা একটি মায়ামি গোলাপি বল প্রেসিডেন্টকে উপহার দেন। এছাড়া একটি মায়ামি জার্সি ও ঘড়ি উপহার পান তিনি মাস ও প্রধান কোচ জাভিয়ের মাসচেরানোর কাছ থেকে।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবার হোয়াইট হাউজে গেলেন মেসি। আরেক ফুটবল তারকা ও তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গত নভেম্বরে সেখানে একটি নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন।

মেসি ও মাসসহ পুরো মায়ামি স্কোয়াডকে পেছনে রেখে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সত্যিকারের প্রতিভাবান মানুষদের সম্মানিত করছি। আমি বলতে খুব গর্ব হচ্ছে যে আগে কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট যেটা বলতে পারেনি, সেটাই বলতে পারছি আমি : ‘লিওনেল মেসি, আপনাকে হোয়াইট হাউজে স্বাগতম।’

তিনি বলে গেলেন, ‘আমার ছেলে বলেছিল, ‘বাবা, তুমি কি জানো আজ এখানে কে আসতে যাচ্ছে?’ আমি বললাম, ‘না, অনেক কিছুই তো হচ্ছে।’ সে বলল ‘মেসি’।”

ছেলের মেসি ভক্তের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বললেন, ‘তিনি আপনার অনেক বড় একজন ভক্ত। তিনি মনে করেন আপনি একজন অসাধারণ মানুষ। এবং আমার ধারণা কিছুক্ষণ আগে আপনাদের দেখাও হয়েছে। তো তিনি ফুটবলের অনেক বড় ভক্ত, তবে তিনি আপনারও একনিষ্ঠ ভক্ত। আর রোনালদো নামের একজন ভদ্রলোকও (ভক্ত)। ক্রিস্টিয়ানো দারুণ। আপনিও দারুণ।’

গত ৬ ডিসেম্বর এমএলএস কাপ জিতেছিল মায়ামি। টানা দ্বিতীয় মৌসুম মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার হন মেসি। তাকে নিয়ে ট্রাম্পের আরও কথা, ‘লিও আপনি এসেছেন এবং জিতেছেন। এমন কিছু করা সত্যিই খুব, খুব কঠিন। এটা অস্বাভাবিক। সত্যি বলতে, আপনার ওপর অনেক বেশি চাপ ছিল, যা আপনার চেয়ে বেশি কেউ জানে না। কারণ আপনার কাছে জয়ের প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু প্রায় কেউই জিততে পারে না।’ 

মায়ামির তারকাদের মধ্যে লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো দে পলও ছিলেন। অভ্যর্থনার পর ট্রাম্প পুরো দলকে ওভাল অফিসে আমন্ত্রণ জানান। হোয়াইট হাউজে চ্যাম্পিয়নশিপ দলকে অভ্যর্থনার জানানোর দীর্ঘদিনের রীতি আছে। সেই ধারাবাহিকতায় মেসির পা পড়ল হোয়াইট হাউজে।