শিরোনাম

উত্তরা ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে ঈদ জামাতে অংশ নিলেন এমপি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ভারত থেকে এসেছে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ভূমধ্যসাগরে ১২ জনের মৃত্যু: ৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা ঘাঁটি ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান ইতালির হরমুজ প্রণালি না খুলেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত।

আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।’


‘এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।’


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।’


‘উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।’
‘তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।’


‘বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন।’


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত।’


‘এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ।
 

বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত।

প্রয়াত রাদভিনস্কিকে নীল দুনিয়ার মার্ক জাকারবার্গ বলা হয় কেন?

সদ্যই মারা গেছেন অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট প্ল্যাটফর্ম ওনলিফ্যানস-এর মালিক লিওনিড রাদভিনস্কি (লিও)। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪৩ বছর বয়সি এই বিলিয়নেয়ার দীর্ঘ সময় ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করা এই উদ্যোক্তা পর্দার আড়ালে থাকতেই পছন্দ করতেন। 

তবে লিও রাদভিনস্কিকে অধিকাংশই ইন্ডাস্ট্রির মার্ক জাকারবার্গ বলেও অভিহিত করেন। যেভাবে জাকারবার্গ সোশ্যাল মিডিয়াকে বদলে দিয়েছেন, লিও তেমনি পর্নো ইন্ডাস্ট্রিতে সাবস্ক্রিপশন মডেল এনে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তাই তাকে জাকারবার্গের সঙ্গে তুলনা করা হতো।

শুধু তাই নয়, জাকারবার্গের মতো ছোট থেকেই প্রযুক্তিগত মেধার প্রমাণ দিয়েছেন রাদভিনস্কি। রাশিয়ান বংশোদ্ভূত ইউক্রেনীয় এই অভিবাসী বেড়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে। সেখানেই চর্চা চলে তার অনলাইনভিত্তিক কাজগুলোর। তবে তিনি সিদ্ধান্ত নেন অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করার। 

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ইন্টারনেটের যুগ যখন শুরু হয়, তখনই তিনি এমন কিছুর পরিকল্পনা করেন। এরপর তার কাজের ধারা চলতেই থাকে। ২০২১ সালে ৪০ বছর হওয়ার আগেই বিখ্যাত ফোর্বস সাময়িকীর বিলিয়নেয়ার তালিকায় নাম লেখান তিনি।

জানা গেছে, মৃত্যুর আগে গত পাঁচ বছরে তার সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল।

তবে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি রহস্যময় চরিত্র হলেও অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রির মানুষের কাছে ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ড্যান লিলের মতে, লিও এই শিল্পে নানা পরিবর্তন এনেছেন এবং নির্মাণের ক্ষমতা সরাসরি পারফর্মারদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

ওনলিফ্যানস-এর আগে ‘মাই ফ্রি ক্যামস’  নামক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক সাফল্য পান। সে সময় সাইটের মডেলদের পেমেন্ট সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় রাদভিনস্কি নিজে সরাসরি সমাধান করতেন বলে জানা যায়।

২০২১ সালে ফোর্বসের এক অনুসন্ধানে তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কিছু বিতর্কিত সাইট নিয়ে তথ্য উঠে এলেও ওনলিফ্যানস-এর মালিক হিসেবে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। বিনোদন ও প্রযুক্তি বিশ্বের এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার এই বিদায় সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

ওনলিফ্যানস কী?

ওনলিফ্যানস হলো লন্ডনভিত্তিক একটি বিশেষ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের ভক্ত বা অনুসারীদের কাছ থেকে মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফির বিনিময়ে বিশেষ ছবি বা ভিডিও দেখার সুযোগ দেন। এখানে সাধারণত ফিটনেস, মিউজিক বা রান্নার মতো বিভিন্ন বিষয়ের কনটেন্ট থাকার কথা থাকলেও প্ল্যাটফর্মটি মূলত বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের বা ‘অ্যাডাল্ট’ কনটেন্টের জন্য।

অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে সেন্সরশিপ থাকলেও ওনলিফ্যানস-এ কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সরাসরি তাদের ভক্তদের কাছে ব্যক্তিগত বা বিশেষায়িত কন্টেন্ট বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করতে পারেন। এখানে ভক্তরা তাদের প্রিয় তারকাদের সঙ্গে সরাসরি মেসেজে কথা বলার পাশাপাশি টিপস বা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে নিজেদের পছন্দমতো বিশেষ ভিডিও তৈরির অনুরোধও করতে পারেন।


 

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

জন্মদিনেই বড় সুখবর পেলেন সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের আজ জন্মদিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আজ তার ৩৯তম জন্মদিন।

আর এই দিনেই বড় সুখবর পেলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানালেন নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। কেবল একটি সিরিজের জন্য নয়, সাকিবকে অন্তত ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতে চান তিনি।

প্রধান নির্বাচক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর আজ মঙ্গলবার মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাকিব প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। সামনেই নিউজিল্যান্ড সিরিজ, সেখানে সাকিবের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সুমন বলেন, ‘সাকিব ঠিক কতখানি ক্রিকেটের মধ্যে আছে, তা নিয়ে আমিও নিশ্চিত নই। সাকিব কাল এসে পরশু খেলে ফেলবে না। ওর প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। এটি কোনো ইমোশনাল জায়গা না। ও যখন ফিরবে, তখন যেন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই ফেরে।’

সাকিবের বয়স ও দীর্ঘ বিরতি নিয়ে অনেক আলোচনা থাকলেও হাবিবুল বাশার মনে করেন, সাকিবের ভেতরে এখনো অনেক ক্রিকেট বাকি, ‘সাকিবের সার্ভিস নিতে পারলে দল অবশ্যই উপকৃত হবে। আমি চাই সে লম্বা সময়ের জন্য আসুক। আমার মনে হয় সাকিবের আরও দুই বছর খেলার সামর্থ্য আছে। আমাদের পরিকল্পনা এমন হওয়া উচিত যেন সে অন্তত ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলে যেতে পারে।’

সাকিব আল হাসানকে ‘জেনুইন অলরাউন্ডার’ উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচক জানান, সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দলে থাকলে ভারসাম্য বজায় থাকে। এখন সাকিবের মামলার আইনগত সমাধান এবং মাঠের প্রস্তুতি—এই দুইয়ের সমন্বয়েই ঠিক হবে কবে নাগাদ লাল-সবুজের জার্সিতে আবার দেখা যাবে দেশের ইতিহাসের সেরা এই অলরাউন্ডারকে।