শিরোনাম

নওগাঁয় আওয়ামী লীগ অফিসে পতাকা হাতে জয় বাংলা স্লোগান গাজা পুনর্গঠনে কাতারের ১০০ কোটি ডলার অনুদান রং-তুলির আঁচড়ে শেষ প্রস্তুতিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফ্যামেলি কার্ড সরাসরি নারীদের হাতে দেয়া হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবস ড. খলিলুর রহমান ও শামা ওবায়েদের

বিনোদন

ছবি: সিফাত নুসরাত।

বাংলাদেশে প্রথম ওয়্যারউলফ-ভ্যাম্পায়ার গল্পে সিফাত নুসরাত

বাংলাদেশি অভিনেত্রী, মডেল ও উদ্যোক্তা সিফাত নুসরাত নতুন একটি সুপারন্যাচারাল সিরিজে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চলেছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভ্যাম্পায়ার এবং ওয়্যারউলফ কেন্দ্রিক গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে।


সিরিজের পাণ্ডুলিপি বই প্রকাশের আগেই রেড প্রোডাকশনস কিনে নেয় এবং দশ এপিসোডের একটি সিজন হিসেবে নির্মাণ করে। সিফাত নিজেই মেইন প্রোটাগোনিস্ট হিসেবে ভ্যাম্পায়ারের চরিত্রে অভিনয় করছেন। তার বিপরীতে থাকছেন অভিনেতা শ্যামল মাওলা, যিনি উলফের চরিত্রে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মানব চরিত্রে দেখা যাবে সামিরা খান মাহি-কে।


সিফাত নুসরাত জানিয়েছেন, এই সিরিজটি সব কাজ শেষ হতে সময় লাগলো প্রায় ৮ মাসের বেশি , ২০২৫ সাল থেকেই সিরিজটিতে কাজ করছিলেন নুসরাত। “আমাদের সিরিজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফার্স্ট সিজনের দশটি এপিসোডের মধ্যে সাতটি কমপ্লিট, বাকি তিনটির কাজও শিগগির শেষ হবে। ডাবিং কাজ শেষ হয়েছে এবং পোস্ট প্রোডাকশন চলছে। আমরা দর্শকদের সামনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুপারন্যাচারাল গল্পটি নিয়ে আসছি, যা সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা।”


তিনি আরও বলেন, “এটি আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক যে আমার লেখা পাণ্ডুলিপি বই প্রকাশের আগেই সিরিজে রূপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও নতুন কিছু কাজের পরিকল্পনা করছি।”


সুপারন্যাচারাল ভ্যাম্পায়ার ও উলফ গল্পের এই সিরিজটি প্রিমিয়ার শোসহ বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে হাজির হতে যাচ্ছে। জেনজি জেনারেশনের প্রথম জেনজি রাইটারের গল্প বই আকারে বাজারে না আসতেই কিনে নিয়েছে প্রডাকশন হাউস। 


সিফাত নুসরাত আরও জানান, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি সকল সাংবাদিক ভাই বোনদের কাছে , এতদিন পুরোপুরি যোগাযোগ বন্ধ রাখার কারণে। কারণ আমি কাজটা ঠিক মতন করতে চেয়েছি। সেটা সম্পূর্ণ না হওয়া অব্দি আমি অনেকের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে হয়েছে, এই উপন্যাস’ দ্য রেড মুন ‘ এবার বই মেলাতেও প্রকাশিত হচ্ছে। সকলের কাছে দোয়া চেয়ে সিফাত নুসরাত তার ভবিষ্যৎ কাজের জন্য এগিয়ে যেতে চান।

খেলা

ছবি: সংগৃহীত।

ভারত-পাকিস্তান মহারণ ঘীরে যে বিশেষ পাঁচ প্রশ্ন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। মাঠের লড়াই শুরুর আগে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে এই ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত আজ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মাঠেই গড়াচ্ছে লড়াইটা।

তবে শক্তিমত্তা আর কৌশলের বাইরেও এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ৫টি বিশেষ বিষয়ের দিকে তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব। সেগুলো হলো-

১. দুই দলকে হাত মেলাতে দেখা যাবে তো?

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথে মাঠের সৌজন্যবোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ২০২৫ এশিয়া কাপসহ জুনিয়র পর্যায়ের বেশ কিছু টুর্নামেন্টে ম্যাচ শেষে দুই দলের ক্রিকেটারদের হাত মেলাতে দেখা যায়নি। তবে আজকের চিত্র ভিন্ন হতে পারে।

গ্যালারিতে আজ পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। গতকাল দুই অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনেও মিলেছে ইতিবাচক ইঙ্গিত। টসের সময় সালমান আগা ও সূর্যকুমার যাদব একে অপরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন কি না, সেটিই এখন বড় কৌতূহল।

২. ফেবারিট কে?

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে ভারত অনেক এগিয়ে থাকলেও (৮ ম্যাচে ৭ জয়), আজকের ম্যাচে পাল্লাটা সমান সমান। কলম্বোর উইকেট ও কন্ডিশনের সঙ্গে পাকিস্তান ভারতের চেয়ে বেশি পরিচিত।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার এম এস কে প্রসাদ ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছেন, ‘এটি একটি ৫০-৫০ ম্যাচ। আপনি কাউকেই এককভাবে ফেবারিট বলতে পারবেন না। কারণ, এটি তাদের (উপমহাদেশীয়) ঘরের মাঠের মতো। ভারত কত দ্রুত কন্ডিশন এবং মাঠের আয়তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।’

প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম ঐতিহ্যগতভাবেই স্পিন সহায়ক। এ ছাড়া এর স্কয়ার এবং স্ট্রেট বাউন্ডারিও অনেক বড়। এখানে গায়ের জোরের চেয়ে কৌশলী ব্যাটিং-বোলিংই বেশি কাজে দেবে। তার ওপর পাকিস্তান কন্ডিশনের সঙ্গে ভারতের চেয়ে বেশি পরিচিত। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সালমানরা এখানেই খেলছেন। বিপরীতে, শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার পর ভারত শুধু শনিবার সন্ধ্যায় অনুশীলন করেছে।

৩. কলম্বোতে আদর্শ স্কোর কত?

প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের বড় বাউন্ডারি আর মন্থর পিচে কেবল গায়ের জোরে ছক্কা হাঁকানো কঠিন হবে। ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রীবৎস গোস্বামী মনে করেন, ভারতের সব সময় আক্রমণাত্মক খেলার ধরন প্রেমাদাসায় কার্যকর না–ও হতে পারে। তিনি ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছেন, এই পিচে কৌশলের প্রয়োজন, ‘এই ম্যাচে তারাই জিতবে, যারা উইকেটের মাঝে ভালো দৌড়াবে। এক এবং দুই রান নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তার এই মতের সপক্ষে যুক্তিও আছে। এই ভেন্যুতে সর্বশেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৭০ রান তাড়া করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ রানে অলআউট হয়। পরে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বলেন, এই মাঠে ২০০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করাটা ঝুঁকিপূর্ণ, ‘১০ ওভারে ৭০ রান তুলে আমরা খুশি ছিলাম। ড্রেসিংরুমে কেউ একজন বলেছিল, ১৯০ করা সম্ভব, আমি বললাম না। আপনি যদি এখন ১৯০-এর দিকে তাকান, তবে ১৪০-এ অলআউট হয়ে যাবেন।’

৪. উসমান তারিক কি 'এক্স-ফ্যাক্টর'?

ভারতীয় দল পাকিস্তানের বেশির ভাগ স্পিনারের বিপক্ষে আগেই খেলেছে। এশিয়া কাপের ফাইনালে মোহাম্মদ নেওয়াজ ও আবরার আহমেদ ভালো বল করলেও ম্যাচ জেতাতে পারেননি। অন্যদিকে পাকিস্তানের পেসাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান বিলিয়েছিলেন। এবার পাকিস্তান কৌশলে পরিবর্তন এনেছে।

হারিস রউফকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হয়নি। বিশেষজ্ঞ স্পিনার এবং স্পিন-অলরাউন্ডারদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভারতের কাছে একমাত্র অজানা নাম উসমান তারিক, যিনি অ্যাকশনের কারণে বর্তমানে বেশ আলোচিত।

এ বিষয়ে শ্রীবৎস বলেন, ‘বোলারের লোডিং পয়েন্ট এবং রিলিজ পয়েন্টের ওপর আপনাকে গভীর মনোযোগ দিতে হবে। ব্যাপারটা সহজ হবে না। কারণ, তার রিলিজ পয়েন্টে বৈচিত্র্য আছে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আগে থেকে কিছু অনুমান করে খেলা উচিত হবে না। তিনি ব্যাক অফ লেংথে বল করেন এবং খুব বেশি বাউন্স পান না। তাই ব্যাটসম্যানরা কিছুটা নিচু হয়ে পজিশন নিতে পারেন, যাতে বলের নিচে গিয়ে শটগুলোতে উচ্চতা পাওয়া যায়।’

তবে এম এস কে প্রসাদ কোনো আতঙ্কের কারণ দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না উসমান তারিক কোনো সমস্যা হবে। এটা পিচের ওপর নির্ভর করবে। অন্যথায় দু-তিনটি বল খেলার পর তাকে অন্য যেকোনো সাধারণ স্পিনারের মতোই মোকাবিলা করা হবে।’

৫. স্পিন বিষে নীল হবে কে?

দুই দলের স্কোয়াডেই মানসম্মত স্পিনারের ছড়াছড়ি। এরমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটার কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেলের রিস্ট স্পিন মোকাবিলা করা পাকিস্তানের মিডল অর্ডারের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে।

অন্যদিকে, ভারতের সূর্যকুমার, হার্দিক বা রিংকু সিংরা স্পিন খেলতে পারদর্শী হলেও কলম্বোর টার্নিং ট্র্যাকে মানিয়ে নেওয়াটা হবে আসল চ্যালেঞ্জ। দিনশেষে যারা স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে স্পিন বিভাগকে সামলাতে পারবে, জয়ের মালা তাদের গলাতেই উঠবে।

এ বিষয়ে দীপ দাশগুপ্ত বলেন, ‘ইতিবাচক দিক হলো ভারতের অধিকাংশ ব্যাটসম্যান, যেমন সূর্য, তিলক, শিবম, হার্দিক ও রিংকুরা স্পিন ভালো খেলে। এমনকি ঈশানেরও যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। চ্যালেঞ্জিং হলেও ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে।’